কুয়েতে ভেঙে পড়ল মার্কিন এফ-১৫! ইরানের পালটা আঘাত নাকি ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’? প্রশ্নে তোলপাড় বিশ্বমঞ্চ

কুয়েতে এফ-১৫ ভেঙে পড়ার ভিডিও ঘিরে বিতর্ক—ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত নাকি ফ্রেন্ডলি ফায়ার? আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না আসায় জল্পনা তুঙ্গে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নতুন মোড় নিল। কুয়েতের আকাশে মাঝউড়ানে বিস্ফোরণের পর মাটিতে আছড়ে পড়ল মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান—এমনই দাবি ছড়িয়েছে সামাজিক মাধ্যমে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম Press TV একটি ভিডিও প্রকাশ করে বলেছে, তেহরানে হামলার পর পালটা অভিযানের জেরে বিমানটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে মার্কিন প্রশাসন বা কুয়েত কর্তৃপক্ষ এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ঘটনার সত্যতা বা কারণ জানায়নি। পাইলট শেষ মুহূর্তে ইজেক্ট করে নিরাপদে বেরিয়ে এসেছেন বলেই প্রাথমিক খবর।

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, আকাশে বিস্ফোরণের পর প্রায় আধ মিনিট চক্কর খেয়ে বিমানটি নিচে নামছে। সেটি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোনে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়। আরেকটি জল্পনা—‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’, অর্থাৎ ভুলবশত মিত্রপক্ষের গুলিতেই ক্ষতি। তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনও দাবিই নিশ্চিত নয়।

পালটা হামলার প্রেক্ষাপট

গত শনিবার ইরানের একাধিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার খবর সামনে আসে। সেই অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়—যদিও এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক নিশ্চিতকরণ মেলেনি। এর পর ইরান মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে মার্কিন ঘাঁটি ও ইজরায়েল লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কথা ঘোষণা করে।

ইরান রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) এক বিবৃতিতে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী USS Abraham Lincoln-এ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দাবি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু জানায়নি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও অজানা।

এফ-১৫ কেন গুরুত্বপূর্ণ?

এফ-১৫ (F-15) মার্কিন বিমানবাহিনীর বহুল ব্যবহৃত, বহুমুখী যুদ্ধবিমান—আকাশযুদ্ধ ও নির্ভুল হামলায় সক্ষম। কুয়েত-সহ উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন উপস্থিতির অংশ হিসেবে এমন বিমান নিয়মিত মোতায়েন থাকে। ফলে এ ধরনের দুর্ঘটনা বা আঘাতের দাবি আঞ্চলিক নিরাপত্তা-সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ভিডিওর সত্যতা ও উৎস যাচাই না করে সিদ্ধান্তে পৌঁছনো উচিত নয়। স্যাটেলাইট ছবি, ফ্লাইট ডেটা ও রাডার ট্র্যাক বিশ্লেষণ না হলে হামলা, প্রযুক্তিগত ত্রুটি নাকি ফ্রেন্ডলি ফায়ার—কোনওটিই নিশ্চিত করা যায় না। একই সঙ্গে তথ্যযুদ্ধের (information warfare) সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে। আনুষ্ঠানিক বিবৃতি ও স্বাধীন যাচাই সামনে এলে তবেই স্পষ্ট হবে—এটি যুদ্ধের সরাসরি ফল, নাকি অন্য কোনও কারণ।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত