নজরবন্দি ব্যুরোঃ পাঁচ দফা দাবি হবু শিক্ষকদের। আগামিকাল হাইকোর্টে ভাগ্য পরীক্ষা। প্রায় ১৪ হাজার উচ্চ প্রাথমিক শূণ্যপদ থাকা সত্ত্বেও আটকে রয়েছে নিয়োগ। কারন হাইকোর্টে চলছে একাধিক মামলা। কদিন আগেই স্কুল সার্ভিস কমিশন সচেষ্ট হয়েছে দ্রুত মামলার নিষ্পত্তি ঘটানোর জন্যে। স্কুল সার্ভিস কমিশনের তরফে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন রাখা হয় উচ্চ প্রাথমিকে নিয়োগ মামলা নিয়ে একটি স্পেশাল কোর্ট বসানোর। কমিশন জানিয়েছে কাউন্সেলিংয়ের জন্য এখন চাকরিপ্রার্থীদের স্কুল সার্ভিস কমিশনের দফতরে আসতে হবে না। অনলাইনেই পছন্দমত স্কুল বাছাইয়ের সুযোগ পাবেন নয়া শিক্ষকরা।


স্কুল সার্ভিস কমিশন জানিয়েছে ১৪ হাজার পদের সাথে যুক্ত হচ্ছে আরও ৫ হাজার শূণ্যপদ। স্কুল সার্ভিস কমিশনের তরফে প্রধান বিচারপতির কাছে বিষয়টি মেনসন করা হয়েছে স্পেশাল কোর্ট বসানোর আবেদনের পাশাপাশি। এই পরিস্থিতিতে আগামী কাল অর্থাৎ ২৪শে আগস্ট এই মামলার শুনানি হতে চলেছে কলকাতা হাইকোর্টে। ২৪ তারিখ উচ্চ প্রাথমিকের মামলাটি উঠবে বিকেল সাটে তিনটে নাগাত। একথা জানিয়েছেন এই মামলার অন্যতম আইনজীবী ফিরদৌস শামিম।
এই পরিস্থিতিতে চাকরিপ্রার্থীরা একাধিক দাবি রেখেছেন। চাকরিপ্রার্থীরা জানিয়েছেন, উচ্চ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয় ২০১৪ সালে, পরীক্ষা হয় ২০১৫ সালে,এবং ফল প্রকাশিত হয় ২০১৬ সালে। এরপর ২০১৯ সালে ভেরিফিকেশন ও ইন্টারভিউ নেওয়া হয় সেখানে দেখা যায় অনেক অপ্রশিক্ষনরত এবং কম নম্বর পাওয়া প্রার্থীরা ডাক পেয়েছে। এরই ভিত্তিতে আমরা হাইকোর্টে কেস করেছিলাম। এরপর বেশ কয়েকজন কেস পিটিশনের ভেরিফিকেশন ডাক পায় । কিন্তু এখনও প্রায় ৪২০০ জন কেস পিটিশনের অর্থাৎ রিট পিটিশনের ভেরিফিকেশন ও ইন্টারভিউ হয়নি। এরই মধ্যে কমিশনের নির্দেশে কলকাতা হাইকোর্ট ২০১৯ সালে প্রভিশনাল মেরিট লিস্ট বের করার রায় দিয়েছিল। পাশাপাশি মেরিট লিস্ট র উপর কারোর কোনো অভিযোগ থাকলে কমিশনে জমা করার কথা বলেছিলেন বিচারপতি। সেই মতো প্রায় ১২০০০ প্রার্থী করেছিল।
পাঁচ দফা দাবি হবু শিক্ষকদের। এই অভিযোগ মূলত ছিল এই বিষয়গুলির উপর
১) অনেক অপ্রশিক্ষনরত প্রার্থী র মেরিট লিস্ট এ অন্তর্ভুক্তি ।
২) যারা এখনো ভেরিফিকেশন এবং ইন্টারভিউ এ ডাক ই পায়নি তাদের তুলনায় কম স্কোর প্রাপ্য প্রার্থী মেরিট লিস্ট এ অন্তর্ভুক্তি।
৩) মেরিট লিস্ট প্রার্থীদের টেট ওয়েইটেজ নিয়ম বহির্ভূত বৃদ্ধি।
৪) রেশিও মেইনটেইন না করা।
৫) গেজেট না মানা।
হবু শিক্ষকদের অভিযোগ আজও আগের অভিযোগ গুলির কোন নিস্পতি হয়নি।


এই পরিস্থিতিতে হাইকোর্টে উচ্চ প্রাথমিক মামলার শুনানি হতে চলেছে আগামীকাল। চাকরিপ্রার্থীদের পক্ষে মামলাটি লড়বেন মূলত বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য, ফিরদৌস সামিম, সুবীর সান্যাল। এখন দেখার আগামীকাল ৭ বছরের বঞ্চনার অবসান ঘটে কিনা।








