উন্নাও ধর্ষণ কাণ্ডে নতুন করে উত্তাল রাজধানী। সাজাপ্রাপ্ত বিজেপির প্রাক্তন বিধায়ক কুলদীপ সিং সেঙ্গারের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে শর্তসাপেক্ষ স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে দিল্লি গেটের সামনে ধর্নায় বসেছিলেন নির্যাতিতা। অভিযোগ, মঙ্গলবার গভীর রাতে দিল্লি পুলিশ টেনে হিঁচড়ে তাঁদের ধর্নাস্থল থেকে সরিয়ে দেয়।
মঙ্গলবার রাত থেকে দিল্লি গেট এলাকায় অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেছিলেন উন্নাওয়ের নির্যাতিতা, তাঁর মা এবং সমাজকর্মী যোগিতা ভায়ানা। দিল্লি হাইকোর্টের সাম্প্রতিক জামিনের সিদ্ধান্তে আতঙ্কিত ও ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁরা প্রকাশ্যে প্রতিবাদে নামেন। নির্যাতিতার অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ ধর্না চলাকালীনই পুলিশ এসে কোনওরকম আলোচনা ছাড়াই তাঁদের জোর করে তুলে দেয়।
‘আমাদের নিরাপত্তা কোথায়?’—আতঙ্কে নির্যাতিতা
সংবাদ সংস্থা ANI-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নির্যাতিতা জানান, এই রায় তাঁর মনে গভীর ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। তাঁর কথায়,
“এই রায় শুনে আমি ভেঙে পড়েছিলাম। আত্মহত্যার কথাও মাথায় এসেছিল, কিন্তু পরিবারের জন্য নিজেকে সামলেছি। একজন ধর্ষণ অভিযুক্ত যদি বাইরে ঘুরে বেড়ায়, আমরা কীভাবে নিরাপদ থাকব?”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই কুলদীপ সেঙ্গারকে জামিন দেওয়া হয়েছে, যাতে তাঁর পরিবারের রাজনৈতিক সুবিধা হয়। নির্যাতিতার দাবি, এই জামিন আদতে ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।

হাইকোর্টের শর্তসাপেক্ষ জামিন
দিল্লি হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ কুলদীপ সেঙ্গারকে শর্তসাপেক্ষ জামিন দিয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী,
-
নির্যাতিতার বাড়ির ৫ কিলোমিটারের মধ্যে প্রবেশ করতে পারবেন না কুলদীপ
-
নির্যাতিতা ও তাঁর পরিবারকে হুমকি দেওয়া যাবে না
তবে নির্যাতিতার আইনজীবীদের বক্তব্য, একাধিক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত একজন ব্যক্তিকে বাইরে রাখাই ভয়ের কারণ।
উন্নাও ধর্ষণ কাণ্ডের পটভূমি
২০১৭ সালে উত্তরপ্রদেশের উন্নাও জেলায় এক নাবালিকাকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে বিজেপি নেতা কুলদীপ সিং সেঙ্গারের বিরুদ্ধে। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর তিনি দোষী সাব্যস্ত হন এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। ২০১৯ সালে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে মামলাটি উত্তরপ্রদেশ থেকে দিল্লিতে স্থানান্তরিত হয়। পরে তাঁকে বিজেপি দল থেকেও বহিষ্কার করা হয়।
ধর্ষণ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তির শর্তসাপেক্ষ জামিন এবং তার প্রতিবাদে বসা নির্যাতিতাকে পুলিশি বলপ্রয়োগে সরানোর অভিযোগ নতুন করে প্রশ্ন তুলছে—ন্যায়, নিরাপত্তা এবং ভুক্তভোগীদের অধিকারের ভবিষ্যৎ নিয়ে। কুলদীপ সেঙ্গারের জামিনের বিরুদ্ধে নির্যাতিতার আইনি লড়াই যে এখানেই শেষ নয়, তা স্পষ্ট।



