নজরবন্দি ব্যুরোঃ পিপিই থেকে মাস্ক। সরকারি কেনাকাটায় লাগামহীন দুর্নীতি। কদিন আগেই আমফানের ত্রান কেলেঙ্কারি নিয়ে রীতিমত সমালোচিত হয়েছিল রাজ্য সরকার। ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে শাসক দলের নেতাদের ত্রান দুর্নীতি কাণ্ড রীতিমত তোলপাড় সৃষ্টি করেছিল রাজ্যে। আর এবার করোনা কেলেঙ্কারি। তাও আবার এক আধ টাকার নয়। কোটি কোটি টাকার। আর শুধু টাকাই নয় করোনা চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ওষুধ, মাস্ক, পিপিই, স্যানিটাইজার নিয়েই দুর্নীতি! অর্থ গরমিলের বহর দেখলে চোখ কপালে উঠবে রাজ্যবাসীর।
করোনা আবহে এখন পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার চিকিৎসার জন্যে সরঞ্জাম কিনেছে রাজ্য সরকার। রাজ্যের অধীনে থাকা ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিক্যাল সার্ভিসেস কর্পোরেশন লিমিটেড নামের একটি সংস্থা মূলত এই চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনে। কিন্তু একসাথে অনেকটা সামগ্রী কেনার কারনে সময় বেশি লাগে। তাই অল্প সময়ে বেশি পরিমান সামগ্রী আনার জন্যে রাজ্য একটি আলাদা কমিটি গঠন করে। উদ্দেশ্য ছিল অল্প সময়ে বেশি সামগ্রী মজুত করা। কিন্তু এখন জানা যাচ্ছে নিয়মের তোয়াক্কা না করে বেশ কিছু এজেন্সি থেকে ওষুধ এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনা হয়েছিল। যার গুণমান ছিল অত্যন্ত খারাপ।
আর শুধু গুণমান খারাপ তাই নয়। দামের যে গরমিল রয়েছে তাঁকে দুর্নীতি বলার থেকে লুঠ বললে বেশি বলা হবে না। কয়েকটি হিসেব দিলে কিছুটা আন্দাজ পাওয়া যাবে। এদিন বাম পরিষদীয় দলনেতা তথা সিপিআইএম বিধায়ক সুজন চক্রবর্তী সেই রেট চার্ট ফাঁস করেছেন। দেখা যাচ্ছে ২৪ টাকার মাস্ক বিল করা হয়েছে ৩৮০ টাকায়। পঞ্চান্ন টাকার ফেসসিল্ডের বিল করা হয়েছে ২১৮ টাকায়। ১৫০০ টাকার স্যানিটাইজার মেশিনের বিল করা হয়েছে ৭০০০ টাকায়।
পিপিই থেকে মাস্ক। সরকারি কেনাকাটায় লাগামহীন দুর্নীতি। বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী এই হিসেব দিয়ে লুঠের টাকা ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এদিন সুজন একটি ট্যুইটে জানিয়েছে। আমফান হোক বা করোনা সংক্রমণ – সুযোগের সন্ধানে শাসকদল। শুধু লুঠ আর তোলাবাজী। দুর্নীতির আখড়া। ভক্ষকরাই কি তদন্ত করবেন? হিসাব দেবার হিম্মত আছে মাননীয়া? তদন্তের রিপোর্ট চাই। লুঠেরা আর তোলাবাজদের তালিকা চাই। দূর্নীতির টাকা ফেরত চাই। অপরাধীদের শাস্তি চাই।
উল্লেখ্য, বিষয়টি জানতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। করোনার চিকিৎসা সামগ্রী কেনাতে এহেন ঘটনা ঘটায় চরম উদবিঘ্ন মুখ্যমন্ত্রী সাথে সাথেই তদন্তের নির্দেশ দেন। স্বরাষ্ট্রসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি তদন্ত করবে এবং দ্রুত মুখ্যসচিব এবং মুখ্যমন্ত্রীকে রিপোর্ট দেবে।



