চাকরি দেওয়ার নামে টাকা তোলে যুব তৃণমূল! বিস্ফোরক উদয়ন।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ চাকরি দেওয়ার নামে টাকা তোলে যুব তৃণমূল! দলের যুব দের প্রতি বার্তা দিতে গিয়ে দলকেই বিপাকে ফেললেন তৃনমূলের দিনহাটার বিধায়ক উদয়ন গুহ। এক দলীয় সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে রবিবার উদয়ন গুহ বলেন,  “লাল চুল আর কানে দুল নিয়ে চাকরির নামে টাকা তোলা আর জমির দালালি করা যুবদের তৃণমূলে দরকার নেই।” এই বক্তব্য কে কেন্দ্র করে বিতর্ক শুরু হয়েছে তৃণমূলের অন্দর মহলে। বলাই বাহুল্য তৃণমূল নেতার এই মন্তব্য ভাল ভাবে নেননি দলের যুব নেতৃত্ব।

আরও পড়ুনঃ আরও শারীরিক অবস্থার অবনতি প্রণব বাবুর, গভীর কোমায় তিনি।

রবিবার দিনহাটায় এক দলীয় কর্মসূচিতে এই বক্তব্য রাখেন উদয়ন গুহ। এদিন কর্মসূচির মঞ্চে ফিরিয়ে নেওয়া হয় একদা দল থেকে বহিষ্কৃত স্থানীয় যুব তৃণমূল নেতা জয়দীপ ঘোষকে। তিনি দিনহাটা কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রকে খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ছিলেন। সেই কারনেই দল তাঁকে বহিষ্কার করে। খুনের দায়ে অভিযুক্ত নেতা সম্প্রতি জামিন পেয়েছেন। আর জামিন পাওয়ার পরেই তাঁকে দলে ফের জায়গা দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর জয়দীপ উদয়নের ঘনিষ্ঠ নেতা। মূলত বিধায়কের উদ্যোগেই তিনি ফের দলে জায়গা পেয়েছেন। যদিও তৃনমূলের একাংশ এই সিদ্ধান্তে খুশি নয়।

চাকরি দেওয়ার নামে টাকা তোলে যুব তৃণমূল! রবিবার এই যুবনেতা কে দলে ফিরিয়ে নেওয়ার পরেই উদয়ন কড়া ভাষায় দলের যুবদের উদ্দেশ্যে বার্তা দেন। তিনি বলেন,  “লাল চুল আর কানে দুল নিয়ে চাকরির নামে টাকা তোলা আর জমির দালালি করা যুবদের তৃণমূলে দরকার নেই।”  এই ঘটনায় বিরোধীরা হাতে নতুন অস্ত্র পেয়ে আক্রমন শানিয়েছে। বাম-বিজেপি উভয়ের বক্তব্যই প্রায় এক। দু পক্ষই অভিযোগ এনেছে আসলে উদয়ন দলীয় দূর্নীতির কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করে নিয়েছেন।

উল্লেখ্য, আমফানের ত্রান এবং রেশন বিলি নিয়ে একাধিক দুর্নীতি অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূল এবং রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে। পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বার্তা দেন আমফানের ত্রান এবং রেশন বিলি নিয়ে কেউ দুর্নীতি করলে তাঁকে ক্ষমা করা হবে না। সে তিনি দে দলের কর্মী হোন বা সরকারি আধিকারিক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তার পর কড়া হাতে দুর্নীতি দমন করা হয় সরকারের পক্ষ থেকে। রেশন ত্রুটিমুক্ত করার জন্য এখনও চলছে মোবাইল ওটিপি সিস্টেম কার্যকর করার কাজ।

পাসাপাশই আমফানের ত্রান বিলিকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে আসে অনেক অভিযোগ। কিন্তু তারই মাঝে রাজ্য সরকার প্রায় ১৭ লক্ষ আমফান পীড়িতদের কাছে ত্রান পৌঁছে দেয়। বিষয়টি নিজে মনিটরিং করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। গত একমাস আমফানের ত্রান বিলি নিয়ে নতুন কোন অভিযোগ প্রকাশ্যে আসেনি। এদিকে উদয়নের মন্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন