ভারতীয় পণ্যে আরও শুল্ক বাড়ানোর ইঙ্গিত ট্রাম্পের, রাশিয়ার তেল কেনাকাটাই কারণ?

রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি লেনদেন ঘিরে অসন্তোষ প্রকাশ করে ফের ট্যারিফ বাড়ানোর হুঁশিয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্টের

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভারত–মার্কিন বাণিজ্য সম্পর্কে নতুন করে চাপ বাড়ানোর ইঙ্গিত দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা অব্যাহত রাখায় ভারতের উপর আরোপিত শুল্ক আরও বাড়ানো হতে পারে—এমনই হুঁশিয়ারি শোনা গিয়েছে তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্যে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এই তথ্য সামনে এনেছে।

হোয়াইট হাউসের অডিও ঘিরে জল্পনা

হোয়াইট হাউসের প্রকাশিত একটি অডিও ক্লিপে শোনা যাচ্ছে, এয়ারফোর্স ওয়ানে যাত্রাকালীন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প ট্যারিফ বৃদ্ধির সম্ভাবনার কথা বলেন। সূত্রের খবর, খুব শীঘ্রই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
ওই অডিওতে ট্রাম্প বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ‘ভালো মানুষ’ এবং তিনি জানেন যে এই মুহূর্তে ওয়াশিংটন সন্তুষ্ট নয়।

আগেই ৫০ শতাংশ শুল্ক, তাতেই ধাক্কা রপ্তানিতে

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালেই ট্রাম্প প্রশাসন ভারতীয় পণ্যের উপর কড়া শুল্ক আরোপ করেছিল। মূলত ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্কের সঙ্গে রাশিয়ার থেকে তেল কেনার ‘জরিমানা’ হিসেবে আরও ২৫ শতাংশ—ফলে মোট শুল্ক দাঁড়ায় ৫০ শতাংশে।
এই সিদ্ধান্তের সরাসরি প্রভাব পড়ে ভারতীয় রপ্তানিতে। গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ (GTRI)-র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে মার্কিন বাজারে ভারতীয় পণ্যের রপ্তানি কমেছে প্রায় ৩৭.৫ শতাংশ। রপ্তানির পরিমাণ ৮৮০ কোটি ডলার থেকে নেমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৫০ কোটি ডলারে।

তেল আমদানিতে বদল আনলেও চাপ কমেনি

গত কয়েক মাসে ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনার পরিমাণ কিছুটা কমিয়েছে এবং একই সঙ্গে আমেরিকা থেকে তেল আমদানি বাড়িয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে ভারত রাশিয়া থেকে প্রায় ৭৭ লক্ষ টন তেল আমদানি করেছে, যেখানে আমেরিকা থেকে এসেছে প্রায় ২৮ লক্ষ টন।
তবু ওয়াশিংটনের অসন্তোষ পুরোপুরি কাটেনি বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

সামনে কী হতে পারে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি সত্যিই শুল্ক আরও বাড়ানো হয়, তা হলে ভারত–মার্কিন বাণিজ্য সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে ভারতের রপ্তানিকারক সংস্থাগুলির উপর চাপ আরও বাড়বে। তবে দিল্লি ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা চলবে বলেই আশা করা হচ্ছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত