মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এক মাস পেরোতেই কি এবার যুদ্ধবিরতির দিকে এগোচ্ছে পরিস্থিতি? মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর সাম্প্রতিক মন্তব্যে সেই সম্ভাবনাই জোরালো হচ্ছে। তিনি জানিয়েছেন, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সেনা অভিযান শেষ হতে পারে। এই ঘোষণা ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, খুব শিগগিরই মার্কিন সেনা ওই অঞ্চল ছেড়ে ফিরতে পারে—“আর দুই সপ্তাহ, হয়তো তিন সপ্তাহ।” তাঁর এই মন্তব্যকে অনেকেই যুদ্ধ শেষের স্পষ্ট বার্তা হিসেবে দেখছেন।
তবে এখানেই শেষ নয়—ট্রাম্প আরও দাবি করেন, এই সিদ্ধান্তের জন্য ইরানের সঙ্গে কোনও আনুষ্ঠানিক চুক্তির প্রয়োজন নেই। বরং তাঁর লক্ষ্য, ইরানকে এতটাই দুর্বল করে দেওয়া যাতে তারা ভবিষ্যতে আর পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে না পারে।
এই অবস্থান ঘিরে নতুন বিতর্কও তৈরি হয়েছে। কারণ, কোনও চুক্তি ছাড়া যুদ্ধ থেকে সরে আসা মানেই কি কৌশলগত পিছু হটা? এমন প্রশ্ন তুলছেন বিশ্লেষকরা। এর আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, আমেরিকার দেওয়া ১৫ দফা শর্তের বেশিরভাগই নাকি মেনে নিয়েছে তেহরান এবং আলোচনা এগোচ্ছে দ্রুতগতিতে।
অন্যদিকে, সেই দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে Iran। ইরানের বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য, এখনও পর্যন্ত ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনও সরাসরি আলোচনা হয়নি। মুখপাত্র Esmail Baghaei জানিয়েছেন, আমেরিকা নাকি পাকিস্তান-সহ বিভিন্ন দেশের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাঠিয়েছে এবং আলোচনার আগ্রহ দেখিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে একাধিক আন্তর্জাতিক সূত্রে শোনা যাচ্ছে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার চাপ এবং বৈশ্বিক কূটনৈতিক সমীকরণের কারণে ওয়াশিংটন এখন দ্রুত সমাধানের পথ খুঁজছে। ফলে ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে অনেকেই “স্ট্র্যাটেজিক এক্সিট” হিসেবেই দেখছেন।
সব মিলিয়ে, যুদ্ধ থামার ইঙ্গিত মিললেও বাস্তবে তা কতটা দ্রুত কার্যকর হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে আগামী কয়েক সপ্তাহই ঠিক করে দেবে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত কোন দিকে মোড় নেয়।



