নজরবন্দি ব্যুরো: বাংলার সৌরভ, ত্রিপুরার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর। আর তারপর থেকেই সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে নিয়ে শুরু রাজনৈতিক টানাপোড়েন। সৌরভকে এবার শেরিফ পদে বসানোর দাবি বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের। তিনি কটাক্ষ করেছেন, তৃণমূল সরকার সৌরভকে ধরে রাখতে পারেনি। সৌগত রায়ের অবশ্য বক্তব্য, টাকা পেয়েছেন, তাই ত্রিপুরায় গিয়েছেন সৌরভ।
আরও পড়ুন: দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা, দিল্লি যাচ্ছেন সিদ্দারামাইয়া-শিবকুমার
শাসক-বিরোধী তরজায় তপ্ত বাংলা।প্রসঙ্গত, বিজেপি শাসিত ত্রিপুরার পর্যটন বিভাগের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হচ্ছেন মহারাজ। আর এই ঘটনা নিয়ে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা। তাহলে কী সৌরভের সাথে ফের বিজেপির ঘনিষ্ঠতা বাড়ল? কারণ পদ্মশাসিত ত্রিপুরার পর্যটনের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হতে তিনি রাজি হয়ে যাওয়ায় সেই প্রশ্ন আবার নতুন করে উঠতে শুরু করেছে। ২০২১ সালের আগে সৌরভকে সরাসরি বাংলার বিধানসভা ভোটে তাদের ‘মুখ’ হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল বিজেপি।

বিভিন্ন টালবাহানা করে তিনি তখন পিছিয়ে যান। এরপর ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি হবার পিছনে যে বিজেপির হাত ছিল সেকথা বোলার অপেক্ষা রাখে না। আবার সেই সভাপতির পদ যাবার পিছনেও যে বিজেপির হাত ছিল সেটাও এক প্রকার ঠিক। সব মিলিয়ে কিছুদিন ধরে বিজেপির সাথে মহারাজের সম্পর্ক মসৃণ ছিলনা। এই ঘটনার পর কী সেটা আবার ঠিক ট্র্যাকে ফিরল? প্রশ্ন উঠেছে রাজনৈতিক মহলে।

কিন্তু সব থেকে বড় কথা সৌরভের এই সিদ্ধান্তে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কেমন ভাবে নিলেন? যদিও এই নিয়ে সে দিক থেকে কোন মন্তব্য এখনও আসেনি। যদিও সৌরভ কোনও ভাবেই মমতার সঙ্গেও সম্পর্ক খারাপ করতে চান না। শাসকদলের বিভিন্ন নেতার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভাল। যেমন বামফ্রন্ট ক্ষমতায় থাকার সময় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বা তৎকালীন পুরমন্ত্রী অশোক ভট্টাচার্যের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কই ছিল। তবে সৌরভ কেন এই সিদ্ধান্ত নিলেন? তিনি তো খুব ভাল করেই জানতেন এই নিয়ে রাজনৈতিক কাটা ছেঁড়া হবেই।

তাহলে এই সম্মতি কি আসলে বার্তা? যে বার্তার অর্থ হল তাঁকে আবার ক্রিকেট প্রশাসনে জায়গা করে দেওয়া হোক? নাকি ফের রাজনীতির দিকে পা বাড়ানোর কথা ভাবছেন বাংলার মহারাজ? সৌরভ যায় ভাবুক সেটা বড় ব্যাপার নয় বিজেপির কাছে। তাঁদের লক্ষ্য এই ঘটনা কে নিয়ে কী ভাবে অন্য দিকে ঘোরানো যায় সেটা নিয়েই। আর তা স্পষ্ট হয়েছে রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুশান্ত মজুমদারের কথাতে, তিনি বলেছেন, ‘বাংলায় অনেক কৃতী এবং যশস্বী মানুষ রয়েছেন।

যাঁরা সর্বভারতীয় ক্ষেত্রেও বিখ্যাত। সৌরভ তাঁদেরই একজন। কিন্তু তাঁকে রাজ্যের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর নিয়োগ না করে শাহরুখ খানকে বাইরে থেকে এনে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর করা হয়েছে! উনি তো বহিরাগত’। এই বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে বিজেপি এটা বোঝাতে চেয়েছে যে সৌরভ কে বাংলার সরকার তাঁর প্রাপ্য সন্মান দেইনি।
ত্রিপুরার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর সৌরভ, কিছু কী বার্তা দিলেন মহারাজ?

আবার অনেকেই মনে করছেন এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মমতা এবং শাহরুখ, দুজনকেই কোনও বার্তা দিতে চাইলেন সৌরভ। সব মিলিয়ে সৌরভের এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের শাসক বিরোধী দুই শিবির কে ফের একবার আমনে সামনে এনে দিল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।



