নজরবন্দি ব্যুরোঃ সভা-মিছিলের সঙ্গে বাড়বে সংক্রমণ, আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে রাজ্যের পরিস্থিতি। আর সেই পরিস্থিতি রুখতেই শেষ ২ দফার নির্বাচন একত্রে করানোর দাবি নিয়ে ফের কমিশনের দরজায় গেলো রাজ্যের শাসক দল। কোভিডের দ্বিতীয় দফায় ইতিমধ্যেই সিঁদুরে মেঘ দেখছে গোটা বিশ্ব। পরিস্থিতি হাতের নাগালের বাইরে যাচ্ছে ভারতেও। দেশের একাধিক রাজ্যে বাড়ন্ত হাসপাতলের বেড থেকে অক্সিজেন।
আরও পড়ুনঃ হোম আইসোলেশনে করোনা আক্রান্ত শুভশ্রী, সকলকে অনুরোধ করছেন সতর্ক থাকতে।
এই পরিস্থিতিতে বাংলায় ৮ দফায় চলছে ২১ এর নির্বাচন। সুস্থিওতার হার একটু কমতেই লাগাতার নির্বাচই প্রচার, মিটিং, মিছিল, সভা এবং মানুষের উদাসীনতা। সব মিলিয়ে প্রতিদিন হুহু করে বাড়ছে রাজ্যে কোভিডঃ+ এর সংখ্যা। এর মধ্যেই করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন একাধিক প্রার্থী। করোয়ার হানায় প্রাণও গেছে প্রার্থীর।
অবস্থার অবনতি দেখেই রাজ্যের তরফে নেওয়া হয়েছে একাধিক সিদ্ধান্ত। বৈঠক হয়েছে নবান্নে। পুর ভবন এবং রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরেও হয়েছে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক। গত শুক্রবার এই করোনা কালে বাকি ৪ দফার নির্বাচন কিভাবে হবে সেই আলোচনায় কমিশন সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছিল। বৈঠকের আগে থেকেই শাসক দল জানিয়েছিল বাকি ৪ দফার ভোট একসঙ্গে হল আপত্তি নেই তাতে।

কিন্তু রাজি হয়নি কমিশন। এমনকি সর্বদলীয় বৈঠকে ভার্চুয়ালি প্রচারের সিদ্ধান্তেও পড়েনি শিলমোহর। তবে রাজ্যের পরিস্থিতির কথা ভেবে ফের একবার কমিশনের দ্বারস্থ তৃণমূল। শেষ দু দফার ভোট একসঙ্গে করাতে আবেদন জানিয়েছে শাসক দল। দলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনের নেতৃত্বে এদিন CEO দফতরে গিয়েছিলেন তৃণমূলের প্রতিনিধিরা।
রাজ্যের শাসকদলের তরফে একটি দাবিপত্র দেওয়া হয়েছে নির্বাচন কমিশনকে। এবং সেখানে দুই দফার নির্বাচন একদিনে করানোর পিছনে কয়েকটি যুক্তি দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। যুক্তিতে বলা হয়েছে, এই পরিস্থিতিতে ভোট দু’দফায় হলে রাজনৈতিক দলগুলোর সভা, মিছিলের সংখ্যা বাড়বে। ফলে সেখান থেকে সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সঙ্গে আক্রান্ত অতে পারেন ভোট কর্মী এবং ভোট পরিচালনার কাজে যুক্ত ব্যক্তিরাও।
তৃণমূলের তরফ থেকে এই সব দাবি আগেও উঠেছে। কোভিড পরিস্থিতিতে কোন ভাবেই ৮ দফার পক্ষপাতি ছিলনা দল। মুখ্যমন্ত্রী বাংলায় উত্তরোত্তর সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণ হিসেবে বিজেপিকেই দায়ী করছিল। অপরদিকে বিজেপি কমিশনের সিদ্ধান্ত মতো ৮ দফার ভোট চেয়েছিল। তাঁদের দাবি ছিল কমিশনের সূচি মতোই নির্বাচন হোক। সব মিলিয়ে গত বৈঠকে কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও একসঙ্গে ভোট নিয়ে কোন সিদ্ধান্ত নেয়নি কমিশন।
সভা-মিছিলের সঙ্গে বাড়বে সংক্রমণ, শেষ দু’দফার ভোট একসাথে করাতে কমিশনে তৃণমূল। আগের বারও কমিশন শাসক দলের এই আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল। যুক্তি ছিলো একসঙ্গে এত দফার নির্বাচন করাতে গেলে একই দিনে বিপুল পরিমান নিরাপত্তা থেকে একাধিক বিষয়ে নতুন পরিকল্পনা দরকার, যা এই সময়ে সম্ভব না।



