Jyoti Basu: ‘আমার প্রিয় নেতা, তোমার প্রিয় নেতা কমরেড জ্যোতি বোস!’ কানে আসত……।

'আমার প্রিয় নেতা, তোমার প্রিয় নেতা কমরেড জ্যোতি বোস!'
Tribute to legendary public leader Jyoti Basu

অর্ক সানা, সম্পাদক(নজরবন্দি): আজ প্রবাদপ্রতিম জননেতা জ্যোতি বসুর প্রয়াণ দিবস। ২০১০ সালে ১৭ জানুয়ারি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু। ঠিক তার পরের বছর রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল হয়েছিল। মাঝে কেটে গেছে ১১ বছর। কমতে কমতে এখন প্রথম বাম শূন্য বিধানসভা বাংলায়, এমন দিন দেখতে হবে কখনও ভাবিনি। সময়টা সঠিক মনে নেই, তবে এটুকু মনে আছে দেশের প্রধানমন্ত্রী তখন পিভি নরসীমা রাও। আমাদের বাড়ি গ্রামে, মফঃস্বল থেকেও অনেক অনেক ভেতরে।

রেডিওতে যখন ভোট গননার খবর আসত, তখন উলুবেড়িয়া লোকসভার ফল বলা হত সবথেকে শেষে। যাই হোক, দেওয়ালে লিখতে না পারলেও বাবা-কাকা-জেঠুদের রং তুলি দিয়ে বাড়ির দেওয়াল আর জানালায় ফুটিয়ে তুলতাম বিচিত্র রকমের কাস্তে হাতুড়ি, তারাটা বেশ ভালই আঁকতাম। জ্ঞান হওয়ার পর থেকে যতদূর মনেপড়ে সভা সমিতি মিটিং হলেই বাড়ি থেকে সাদা ধুতি পাঞ্জাবি পরা ‘নেতা’ জেঠুরা অনেকটা আমার দাদুর মত দেখতে একটা লোকের ছবি লাগানো ক্যাসেট নিয়ে যেত। সেই ক্যাসেট মাঝে বাড়িতেও বাজত। “আমার প্রিয় নেতা, তোমার প্রিয় নেতা কমরেড জ্যোতি বোস!”

Jyoti Basu 3

পরে জেনেছিলাম আমাদের মুখ্যমন্ত্রীর নাম জ্যোতি বসু। ১৯৯৬ সালের লোকসভা নির্বাচনে বদলে গেলেন নরসীমা, কিন্তু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে থেকেই গেলেন ওই দাদুর মত দেখতে লোকটা, জ্যোতি বসু। এরপরে ৯৮, দেখলাম পাড়ার দেওয়ালে হাত মুখে সেই লোকগুলোই ঘাসফুল আঁকছে। জানলাম কংগ্রেস যুবনেত্রী মমতা ব্যানার্জী দল গড়েছেন নিজের। নাম তৃণমূল কংগ্রেস। তখন নবম শ্রেণী ২০০১ সাল। পড়ার বইয়ের আড়ালে শ্রীকান্ত আর সদ্য প্রকাশিত সুনীল গাঙ্গুলীর প্রথম আলো থেকে চোখ সরত না। চোখ সরতনা আরও একটা জিনিশ থেকে, সেটা লাল ঝাণ্ডা। বাড়িতে গোটা ১০ লাল ঝান্ডা সব সময় দেখতে পেতাম। যখন সাংবাদিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু হল তখন জ্যোতি বসু প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। সুতরাং কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়নি। সবটাই বই পড়ে, রেডিও আর টিভি দেখে জানা।

৮ জুলাই, ১৯১৪ সালে জন্মগ্রহণ করেছিলেন জ্যোতি বসু। তিনি ১৯৭৭ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত একটানা তেইশ বছর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তিনিই ছিলেন ভারতের দীর্ঘতম মেয়াদের মুখ্যমন্ত্রী। ১৯৬৪ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি সিপিআই(এম) এর পলিটব্যুরো সদস্য ছিলেন। ছাত্রাবস্থায় উচ্চশিক্ষার্থে ইংল্যান্ডে গিয়ে কমিউনিস্ট ভাবাদর্শে উদ্বুদ্ধ হন বসু। ১৯৪০ সালে গ্রহণ করেন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ। ১৯৪৬ সালে অবিভক্ত বাংলা প্রদেশের প্রাদেশিক আইনসভায় কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি রূপে নির্বাচিত হন।

‘আমার প্রিয় নেতা, তোমার প্রিয় নেতা কমরেড জ্যোতি বোস!’

 'আমার প্রিয় নেতা, তোমার প্রিয় নেতা কমরেড জ্যোতি বোস!'
‘আমার প্রিয় নেতা, তোমার প্রিয় নেতা কমরেড জ্যোতি বোস!’

দেশভাগের পর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার প্রতিনিধি নির্বাচিত হন বসু। ড. বিধানচন্দ্র রায়ের মুখ্যমন্ত্রীত্বে তিনি হন পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা। ১৯৬৪ সালে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির বিভাজনের পর বসু যোগ দেন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী) দলে। ১৯৬৭ সালের যুক্তফ্রন্ট সরকারের উপমুখ্যমন্ত্রী হন জ্যোতি বসু। এরপর ১৯৭৭ সালের ২১ জুন শপথ নেন পশ্চিমবঙ্গের বামফ্রন্ট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে।

১৯৯৬ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার নাম বিবেচিত হলেও, তিনি পার্টির সিদ্ধান্তে সেই পদ প্রত্যাখ্যান করেন। টানা ২৩ বছর মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের পর শারীরিক অসুস্থতার কারণে ২০০০ সালের ৬ নভেম্বর বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের হাতে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব অর্পণ করে অবসর নেন বসু। বিলেত-ফেরত বাঙালি ভদ্রলোক সমাজের প্রতিনিধি বসু ছিলেন এক অবিসংবাদী জননেতা ও নিজের দল এবং দলের বাইরেও বিশিষ্ট সম্মানের অধিকারী।