তৃণমূলের নাম-প্রতীক বিতর্কে বড় পদক্ষেপ নির্বাচন কমিশনের, ৬ জুলাইয়ের মধ্যে জবাব চাইল মমতা ও ঋতব্রত শিবিরের কাছে

তৃণমূলের প্রকৃত নেতৃত্ব ও প্রতীক নিয়ে দুই শিবিরের দাবির প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে লিখিত বক্তব্য চেয়েছে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

তৃণমূল কংগ্রেসের (All India Trinamool Congress) নাম ও নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করল ভারতের নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)। কমিশন পৃথক চিঠি পাঠিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee)-এর নেতৃত্বাধীন দুই শিবিরের কাছেই লিখিত বক্তব্য চেয়েছে। আগামী ৬ জুলাই, সোমবার বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটের মধ্যে নিজেদের অবস্থান জানাতে বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সামনে হাজির হয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির নিজেদেরই ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করে। সেই দাবির সমর্থনে জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকের সিদ্ধান্ত, সাংগঠনিক নথি এবং পদাধিকারীদের তালিকাও কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে বলে তাঁদের দাবি।

অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরও ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের কাছে নিজেদেরই প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস বলে দাবি জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই কমিশন উভয় শিবিরের বক্তব্য লিখিতভাবে জানতে চেয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের চিঠি প্রসঙ্গে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কমিশন দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এবং তারা যে তথ্য চেয়েছে, তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই জমা দেওয়া হবে। তাঁর দাবি, তাঁদের আইনি ও সাংগঠনিক অবস্থান ইতিমধ্যেই কমিশনের সামনে তুলে ধরা হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ জবাব পাঠানো হবে।

অন্যদিকে, কমিশনের সঙ্গে ঋতব্রত শিবিরের বৈঠক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির। তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) দাবি করেছেন, ওই বৈঠকের কোনও বৈধতা নেই। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপ নিয়েও তিনি সমালোচনা করেন এবং কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তবে এই মন্তব্যগুলি তাঁর ব্যক্তিগত ও দলীয় অবস্থান।

এখনও পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি। দুই পক্ষের বক্তব্য ও নথি পর্যালোচনার পরই দলীয় স্বীকৃতি এবং প্রতীক সংক্রান্ত বিষয়ে কমিশন পরবর্তী পদক্ষেপ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ। কারণ, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তই ভবিষ্যতে তৃণমূল কংগ্রেসের নাম, প্রতীক এবং সাংগঠনিক স্বীকৃতি সংক্রান্ত জটিলতার নিষ্পত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন