রথযাত্রা ও শ্রাবণী মেলাকে আরও সুষ্ঠু ও আকর্ষণীয় করে তুলতে একাধিক নতুন পরিকল্পনার ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। আগামী ১৬ জুলাই রথযাত্রাকে সামনে রেখে আর্থিকভাবে দুর্বল প্রাচীন রথযাত্রাগুলিকে অনুদান দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শ্রাবণ মাস জুড়ে তারকেশ্বর (Tarakeswar), জল্পেশ (Jalpesh) এবং মহাকাল মন্দির (Mahakal Temple)-এ কপ্টার থেকে পুণ্যার্থীদের উপর পুষ্পবৃষ্টিরও পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার নবান্নে (Nabanna) অনুষ্ঠিত রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Pal) এই সিদ্ধান্তগুলির কথা জানান। তিনি বলেন, বহু ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা এখনও আর্থিক সঙ্কটের মধ্যে কোনওমতে আয়োজিত হয়। সেই সব শতবর্ষ বা দেড়শো বছরের পুরনো রথযাত্রার আয়োজন যাতে যথাযথ মর্যাদায় করা যায়, তার জন্য আর্থিক সহায়তার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
শুধু রথযাত্রাই নয়, শ্রাবণী মেলাকে কেন্দ্র করেও বিস্তৃত প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তারকেশ্বর (Tarakeswar), জলপাইগুড়ির জল্পেশ (Jalpesh) এবং আলিপুরদুয়ারের কালচিনির মহাকাল মন্দিরে (Mahakal Temple, Kalchini) শ্রাবণ মাসের প্রতি রবিবার কপ্টার থেকে ফুল বর্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। প্রতিবছর এই মন্দিরগুলিতে লক্ষ লক্ষ ভক্ত মহাদেবের মাথায় জল নিবেদন করতে আসেন। তাঁদের সুবিধার কথা মাথায় রেখেই এই উদ্যোগ।

পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা ও পরিষেবা নিশ্চিত করতে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থানে সরকারি সহায়তা শিবির গড়ে তোলা হবে। সেখানে বিশ্রামাগার, বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য শিবির, অস্থায়ী শৌচালয় এবং প্রয়োজনীয় পরিষেবার ব্যবস্থা রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে শ্রাবণী মেলাকে ঘিরে পরিকাঠামো উন্নয়নেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নগরোন্নয়ন দপ্তর এবং তারকেশ্বর পুরসভার যৌথ উদ্যোগে গোটা এলাকা বিশেষ আলোকসজ্জায় সাজানো হবে। পুণ্যার্থীদের হাঁটার সুবিধার জন্য রাস্তার উপর পাটের কার্পেট বিছিয়ে নিয়মিত জল ছিটিয়ে দেওয়া হবে, যাতে গরম ও ধুলোবালির সমস্যা কমে।
এছাড়া মন্দির চত্বর এবং বিভিন্ন প্রবেশপথে বড় LED স্ক্রিন বসানো হবে। সেই স্ক্রিনে মন্দিরের ভিতরের ভিড়ের লাইভ ছবি দেখানো হবে, যাতে ভক্তরা পরিস্থিতি বুঝে সুবিধাজনক সময়ে লাইনে দাঁড়াতে পারেন এবং দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা না করেই পূজার সুযোগ পান।
রাজ্য সরকারের এই নতুন পরিকল্পনায় ইতিমধ্যেই খুশি পুণ্যার্থীরা। তাঁদের আশা, এবার রথযাত্রা এবং শ্রাবণী মেলা আগের তুলনায় আরও সুশৃঙ্খল, নিরাপদ এবং উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে।






