বিশ্বের কোন কোন দেশে পালিত হয় রথযাত্রা? জগন্নাথ উৎসবের বিশ্বজোড়া বিস্তার এক নজরে

ভারতের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিশ্বের নানা দেশে জগন্নাথদেবের রথযাত্রা পালিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া-সহ কোথায় কোথায় এই উৎসব হয়, জেনে নিন।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

রথযাত্রা এখন আর শুধুমাত্র ভারত বা ওড়িশার (Odisha) পুরী (Puri)-র মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভগবান জগন্নাথ (Jagannath)-এর এই ঐতিহ্যবাহী উৎসব আজ বিশ্বের বহু দেশে সমান উৎসাহে পালিত হয়। ভারতীয় প্রবাসী সম্প্রদায়, বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বী এবং ইসকন (ISKCON)-এর উদ্যোগে ইউরোপ, আমেরিকা, এশিয়া, আফ্রিকা ও ওশেনিয়ার বিভিন্ন শহরে প্রতিবছর রথযাত্রার আয়োজন করা হয়। ধর্মীয় আচার, শোভাযাত্রা, কীর্তন এবং প্রসাদ বিতরণের মাধ্যমে এই উৎসব আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক মিলনেরও এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হয়ে উঠেছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পালিত রথযাত্রা শুধু ধর্মীয় বিশ্বাসের পরিচয় নয়, ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের বিশ্বব্যাপী প্রসারেরও এক উজ্জ্বল উদাহরণ। কোথায় কোথায় এই উৎসব পালিত হয়, এক নজরে দেখে নেওয়া যাক।

যুক্তরাষ্ট্র (United States)

যুক্তরাষ্ট্রে নিউ ইয়র্ক (New York), সান ফ্রান্সিসকো (San Francisco), লস অ্যাঞ্জেলেস (Los Angeles), শিকাগো (Chicago), হিউস্টন (Houston) এবং আরও বহু শহরে প্রতিবছর জাঁকজমকের সঙ্গে রথযাত্রা পালিত হয়। ইসকনের উদ্যোগে হাজার হাজার মানুষ এই শোভাযাত্রায় অংশ নেন। অনেক শহরে স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে প্রধান সড়কেই রথ টানা হয়।

যুক্তরাজ্য (United Kingdom)

লন্ডন (London)-এর রথযাত্রা ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ জগন্নাথ উৎসব হিসেবে পরিচিত। বিখ্যাত ট্রাফালগার স্কোয়ার (Trafalgar Square) পর্যন্ত রথযাত্রা পৌঁছায় এবং ভারতীয়দের পাশাপাশি বহু বিদেশিও এতে অংশ নেন।

কানাডা (Canada)

টরন্টো (Toronto), ভ্যাঙ্কুভার (Vancouver) এবং মন্ট্রিয়ল (Montreal)-এ প্রতিবছর রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। ধর্মীয় শোভাযাত্রার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ভজন এবং নিরামিষ ভোজনেরও আয়োজন করা হয়।

অস্ট্রেলিয়া (Australia)

সিডনি (Sydney), মেলবোর্ন (Melbourne), ব্রিসবেন (Brisbane) এবং পার্থ (Perth)-এ ইসকনের উদ্যোগে রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। ভারতীয় প্রবাসীদের পাশাপাশি বহু স্থানীয় নাগরিকও এই উৎসবে অংশগ্রহণ করেন।

বাংলাদেশ (Bangladesh)

ঢাকা (Dhaka), চট্টগ্রাম (Chattogram), সিলেট (Sylhet) এবং অন্যান্য অঞ্চলে বহু বছর ধরে রথযাত্রা পালিত হচ্ছে। বাংলাদেশের হিন্দু সমাজের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব এটি।

নেপাল (Nepal)

কাঠমান্ডু (Kathmandu) এবং নেপালের বিভিন্ন বৈষ্ণব মন্দিরে জগন্নাথদেবের রথযাত্রা পালিত হয়। ভারত-নেপালের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মিল এই উৎসবেও স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।

সিঙ্গাপুর (Singapore)

সিঙ্গাপুরে ইসকন এবং হিন্দু সংগঠনগুলির উদ্যোগে প্রতিবছর রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। রঙিন শোভাযাত্রা, কীর্তন এবং প্রসাদ বিতরণ এই উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ।

মালয়েশিয়া (Malaysia)

কুয়ালালামপুর (Kuala Lumpur) এবং পেনাং (Penang)-এ ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষের উদ্যোগে রথযাত্রা পালিত হয়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এটি অন্যতম পরিচিত জগন্নাথ উৎসব।

সংযুক্ত আরব আমিরাত (United Arab Emirates)

দুবাই (Dubai) এবং আবু ধাবি (Abu Dhabi)-তে ভারতীয় সম্প্রদায়ের উদ্যোগে সীমিত পরিসরে রথযাত্রা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। স্থানীয় আইন মেনে মন্দির চত্বরে বা নির্দিষ্ট স্থানে অনুষ্ঠান হয়।

দক্ষিণ আফ্রিকা (South Africa)

ডারবান (Durban) এবং জোহানেসবার্গ (Johannesburg)-এ ভারতীয় বংশোদ্ভূত সম্প্রদায় বহু বছর ধরে রথযাত্রা উদ্‌যাপন করে আসছে। ধর্মীয় শোভাযাত্রার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও এই উৎসবের অংশ।

মরিশাস (Mauritius)

মরিশাসে ভারতীয় সংস্কৃতির প্রভাব অত্যন্ত গভীর। তাই জগন্নাথদেবের রথযাত্রাও এখানে যথেষ্ট জনপ্রিয়। বিভিন্ন মন্দির ও ধর্মীয় সংগঠন প্রতিবছর এই উৎসবের আয়োজন করে।

ফিজি (Fiji)

ফিজির ভারতীয় বংশোদ্ভূত সম্প্রদায়ের মধ্যে রথযাত্রার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ধর্মীয় শোভাযাত্রার পাশাপাশি ভক্তিমূলক অনুষ্ঠানও অনুষ্ঠিত হয়।

কেন বিশ্বের নানা দেশে রথযাত্রার জনপ্রিয়তা বাড়ছে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতীয় প্রবাসীদের সংখ্যা বৃদ্ধি, ইসকনের আন্তর্জাতিক কার্যক্রম এবং ভারতীয় সংস্কৃতির বিশ্বব্যাপী প্রসারের ফলে রথযাত্রার জনপ্রিয়তা ক্রমশ বাড়ছে। বর্তমানে এটি শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং বহুসংস্কৃতির মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।

বহু বিদেশি ভক্তও ইসকনের মাধ্যমে রথযাত্রায় অংশ নেন এবং এই উৎসব এখন আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

ভারতের সীমানা ছাড়িয়ে আজ রথযাত্রা বিশ্বব্যাপী ভক্তি, ঐক্য এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। পুরীর ঐতিহ্যকে সঙ্গে নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাস্তায় যখন জগন্নাথদেবের রথ এগিয়ে চলে, তখন ভারতীয় সংস্কৃতির বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতার এক অনন্য চিত্রও ফুটে ওঠে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন