পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের জল্পনা তুঙ্গে। ভোটের ফল প্রকাশের অল্প সময়ের মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে প্রকাশ্যে এসেছে বড়সড় বিভাজনের ছবি। সূত্রের দাবি, প্রায় ৬০ জন বিধায়কের সমর্থনপত্র নিয়ে বিধানসভায় পৌঁছেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর ঘনিষ্ঠরা। এর জেরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
জানা গিয়েছে, বিক্ষুব্ধ শিবিরের পক্ষ থেকে বিধানসভার অধ্যক্ষের কাছে একটি চিঠি জমা দেওয়া হতে পারে। সেই চিঠিতে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা এবং সন্দীপন সাহাকে উপ-বিরোধী দলনেতা করার দাবি জানানো হবে। পাশাপাশি মুখ্য সচেতক পদে মুর্শিদাবাদের বিধায়ক আখরুজ্জামানের নামও প্রস্তাব করা হতে পারে।


রাজনৈতিক সূত্রে দাবি, এই বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর সঙ্গে তৃণমূলের একাধিক পরিচিত ও প্রভাবশালী নেতা-মন্ত্রী যুক্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা, প্রাক্তন মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন, প্রাক্তন মন্ত্রী জাভেদ খান, বীরভূমের প্রভাবশালী নেতা কাজল শেখ এবং প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা।
এছাড়াও মুর্শিদাবাদের নিয়ামত শেখ, সামশেরগঞ্জের মহম্মদ নূর আলম, কেশপুরের শিউলি সাহা, উদয়নারায়ণপুরের সমীর পাঁজা, ডোমজুড়ের তাপস মাইতি এবং হাওড়া মধ্যের অরূপ রায়ের নামও আলোচনায় উঠে এসেছে।
বিক্ষুব্ধ শিবিরে উত্তর দিনাজপুরের গোলাম রব্বানি, ঊষারানি মণ্ডল, পিয়া পাল, গুলশন মল্লিক, মধ্যমগ্রামের রথীন ঘোষ এবং মহেশতলার শুভাশিস দাসের মতো বিধায়কদের নামও ঘুরছে রাজনৈতিক মহলে।


সূত্রের খবর, গত দু’দিন ধরেই কলকাতায় অবস্থান করছিলেন এই শিবিরের একাধিক বিধায়ক। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এমএলএ হোস্টেলে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার সঙ্গে তাঁদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকও হয়। সেখানেই পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে দাবি।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এই শিবিরে শুধু তৃণমূলের পুরনো ও অভিজ্ঞ নেতারাই নন, প্রথমবার নির্বাচিত কয়েকজন তরুণ বিধায়কও যোগ দিয়েছেন বলে সূত্রের দাবি। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ জেলার একাধিক সংখ্যালঘু বিধায়কের সমর্থন এই গোষ্ঠীর শক্তি বাড়িয়েছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন।
তবে এখনও পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই দাবিগুলি নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর শক্তি, সমর্থনের প্রকৃত সংখ্যা এবং আগামী রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে জল্পনা অব্যাহত রয়েছে। এখন নজর বিধানসভার অধ্যক্ষের সিদ্ধান্ত এবং তৃণমূলের পরবর্তী অবস্থানের দিকে।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



