বিধানসভার সই বিতর্ক ঘিরে তৃণমূল কংগ্রেসের অস্বস্তি আরও বাড়তে পারে। সই জালিয়াতির অভিযোগের তদন্তে নেমে শুধু স্বাক্ষর নিয়েই নয়, সংশ্লিষ্ট নথির একাধিক অসঙ্গতিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। সূত্রের দাবি, বিধানসভার অধ্যক্ষের কাছে পাঠানো চিঠি এবং রেজোলিউশন নথিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ গরমিল উঠে এসেছে, যা নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, সংশ্লিষ্ট রেজোলিউশন নোটবুক পর্যালোচনার সময় একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে। স্বাক্ষর সংক্রান্ত অভিযোগের পাশাপাশি নথির তারিখ, ক্রমিক নম্বর এবং নথিভুক্তির পদ্ধতি নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
বিশেষ করে তারিখ সংক্রান্ত অসঙ্গতি তদন্তকারীদের নজরে এসেছে। সূত্রের দাবি, নথির শুরুতে থাকা একটি স্বাক্ষরের পাশের তারিখ স্পষ্ট নয় এবং সেটি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। ওই তারিখের ব্যাখ্যা ও নথিভুক্তির প্রক্রিয়া এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
শুধু তাই নয়, রেজোলিউশন নথিতে কয়েকটি নির্দিষ্ট ক্রমিক নম্বর অনুপস্থিত থাকার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারী মহলের একাংশের মতে, নথির ধারাবাহিকতায় এমন অসঙ্গতি থাকলে তার গ্রহণযোগ্যতা এবং প্রক্রিয়াগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসেনি।
এরই মধ্যে সই বিতর্ককে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে। দলীয় অবস্থানের বিরোধিতা এবং অভিযোগ প্রকাশ্যে আনার পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কার করেছে তৃণমূল। এরপর থেকেই দলের অন্দরে মতবিরোধ ও সম্ভাব্য ভাঙন নিয়ে জল্পনা অব্যাহত রয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এলে তা তৃণমূলের জন্য আরও অস্বস্তির কারণ হতে পারে। বিশেষ করে বিধানসভা সংক্রান্ত নথির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে রাজনৈতিক ও আইনি—দুই ক্ষেত্রেই তার প্রভাব পড়তে পারে।
অন্যদিকে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার আবহে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিষ্ণুপুরে দলীয় কার্যালয়ের নিরাপত্তা এবং কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবিতে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছে। দলের অভিযোগ, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর দলীয় কার্যালয়ে অনধিকার প্রবেশ এবং বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে।
তবে দলীয় কার্যালয় সংক্রান্ত মামলার পাশাপাশি এখন নজর মূলত সই বিতর্কের তদন্তের দিকে। তদন্তে উঠে আসা নথিগত অসঙ্গতিগুলির ব্যাখ্যা কীভাবে দেওয়া হয় এবং ভবিষ্যতে এই মামলার গতিপথ কোন দিকে এগোয়, তা নিয়েই রাজনৈতিক মহলের কৌতূহল সবচেয়ে বেশি।
সই জালিয়াতি বিতর্ক থেকে শুরু করে নথির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন—সব মিলিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। আগামী কয়েকদিনের তদন্ত এবং আদালতের পর্যবেক্ষণই এই বিতর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।



