তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কারের পর ফের শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্বকে নিশানা করলেন উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা চাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে নাম না করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করেন তিনি। একইসঙ্গে দলের বর্তমান পরিস্থিতি এবং সাংগঠনিক কাঠামো নিয়েও একাধিক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বহিষ্কৃত এই বিধায়ক।
মঙ্গলবার বিধানসভায় যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ঋতব্রত বলেন, জননেতার প্রকৃত নিরাপত্তা আসে মানুষের সমর্থন থেকে। তাঁর বক্তব্য, তিনি কোনও অতিরিক্ত নিরাপত্তা ছাড়াই জনসমক্ষে ঘোরাফেরা করছেন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। সেই প্রসঙ্গ টেনেই তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্রীয় নিরাপত্তার আবেদন নিয়ে পরোক্ষে প্রশ্ন তোলেন।


প্রসঙ্গত, সম্প্রতি সোনারপুরে একটি কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর সাংসদ হিসেবে নিজের নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য কেন্দ্রীয় সুরক্ষার আবেদন করেছেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের।
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের বর্তমান সংকটের পেছনে দলের সাংগঠনিক চরিত্রের পরিবর্তন বড় কারণ। তাঁর অভিযোগ, দলকে সাধারণ মানুষের সংগঠন থেকে কর্পোরেট ধাঁচের কাঠামোয় রূপান্তরিত করার চেষ্টা হয়েছে, যার ফল এখন সামনে আসছে।
তবে দলের সঙ্গে মতপার্থক্য থাকলেও তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা অটুট রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। ঋতব্রতর কথায়, রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নেতৃত্ব বিরল এবং তাঁর প্রতি ব্যক্তিগত সম্মান ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে।


এদিকে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও বেড়েছে বিধানসভাকে কেন্দ্র করে। মঙ্গলবার বিধানসভায় যাওয়ার কথা জানিয়েছেন ঋতব্রত। যদিও তিনি স্পষ্ট করেননি যে, বিধানসভার সচিব বা স্পিকারের সঙ্গে তাঁর কোনও নির্ধারিত বৈঠক রয়েছে কি না।
একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে তাঁর আলোচনা চলছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক কৌশলবিদ হিসেবে পরিচিত প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে কথাবার্তা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এই মন্তব্যের পর নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে।
রাজনৈতিক সূত্রে বিদ্রোহী বিধায়কদের সমর্থন নিয়ে নানা আলোচনা চললেও সেই সংখ্যা নিয়ে এখনও কোনও সরকারি বা নির্ভরযোগ্য তথ্য সামনে আসেনি। তবে তৃণমূলের অন্দরে অসন্তোষ এবং বহিষ্কারের পরবর্তী রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা স্পষ্ট।
আগামী কয়েকদিনে বিধানসভা এবং দলীয় রাজনীতির ক্ষেত্রে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



