তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে সই বিতর্ক, বহিষ্কার এবং ভাঙনের জল্পনার মাঝেই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করলেন দলের মুখপাত্র প্রতীক উর রহমান। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বহিষ্কারের পর রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছিল, তাঁর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত প্রতীক উরও কি দল ছাড়তে পারেন? সেই জল্পনায় এবার সরাসরি ইতি টানলেন তিনি।
সাম্প্রতিক এক প্রতিক্রিয়ায় প্রতীক উর রহমান স্পষ্ট জানিয়েছেন, দলের সিদ্ধান্তই তাঁর সিদ্ধান্ত। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়ে তাঁর কোনও ভিন্নমত নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি। ফলে তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে তৈরি হওয়া জল্পনা অনেকটাই পরিষ্কার হয়েছে।


প্রসঙ্গত, বাম শিবির ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার সময় থেকেই প্রতীক উর রহমানের সঙ্গে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার আলোচনা হয়েছিল। সেই সূত্র ধরেই সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের পর নতুন করে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল রাজনৈতিক মহলে।
তবে প্রতীক উরের দাবি, তিনি কোনও ব্যক্তির হাত ধরে নয়, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের আহ্বানে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের উপর আস্থা রেখেই তিনি ঘাসফুল শিবিরে এসেছেন। তাই ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভিত্তিতে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
এদিকে তৃণমূলের অন্দরে চলা বর্তমান অস্থিরতা এবং সই বিতর্ক প্রসঙ্গে বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলেছেন প্রতীক উর রহমান। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে বিজেপি বিভিন্ন জায়গায় বিভাজনের রাজনীতি করে থাকে এবং বাংলাতেও সেই একই কৌশল প্রয়োগের চেষ্টা চলছে।


তিনি আরও দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গের ভোটারদের একটি বড় অংশ এখনও বিজেপির বিরোধী অবস্থানে রয়েছে। তাই রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করে বিরোধী শিবির সুবিধা নিতে চাইছে বলেই তাঁর অভিযোগ।
অন্যদিকে, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর সাম্প্রতিক হামলার ঘটনাতেও সরব হয়েছেন প্রতীক উর। তিনি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে রাজনৈতিক সহিংসতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক বার্তায় তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর উপর হামলার ঘটনায় নীরব থাকা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য বিপজ্জনক। তাঁর মতে, সময়মতো প্রতিবাদ না করলে ভবিষ্যতে বৃহত্তর সমাজও তার প্রভাবের মুখে পড়তে পারে।
রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রতীক উর রহমানের এই অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, দলীয় অস্থিরতার জল্পনার মধ্যেও তিনি আপাতত তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গেই রয়েছেন। একইসঙ্গে বিরোধীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াই জারি রাখার বার্তাও দিয়েছেন তিনি।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



