আরাবুল ইসলাম আর ভাঙড় এই নাম দু’টো যেন সমার্থক। বর্তমানে জেলবন্দি রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় আরাবুলের নাম দেন ‘তাজা নেতা’। এর পর থেকেই সাংবাদিক মহল বা ভাঙড়ের রাজনীতিতে তাঁকে সেই নামেই চেনেন সকলে। একসময়ের ‘তাজা নেতা’ আজ যেন হয়ে গেলেন ‘বাসি নেতা’! এই মুহূর্তে জেলে রয়েছেন আরাবুলও। ভোটের মুখে তাঁকে আহ্বায়ক পদ থেকে সরিয়ে দিল তৃণমূল।
আরও পড়ুন: বিমুখ বিজেপি কর্মীরা, সহযোগিতা প্রার্থনা পূর্ব বর্ধমানের পদ্ম প্রার্থী অসীমের


দীর্ঘদিন ধরে বামেদের হাতে ছিল ভাঙড় বিধানসভা। ২০১১ সালে রাজ্যজুড়ে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার আগেই ২০০৬ সালের বিধানসভায় ভাঙড় থেকে জোড়াফুল প্রতীকে জিতে তাক লাগিয়ে দেন আরাবুল ইসলাম। সেই থেকেই রাজনৈতিক মহলে তিনি চর্চিত। কিন্তু, আরাবুল নিজের জায়গা ধরে রাখতে পারেননি বেশিদিন।

২০১১ সালে যখন বাম শাসনের পতন ঘটলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সেবছরই আবার ভাঙড় হাতছাড়া হয় জোড়াফুল শিবিরের। বামেদের আসন পুনরুদ্ধার করেন বাদল জামাদার। অন্যদিকে, প্রথম থেকে আরাবুলের মূল প্রতিপক্ষ যিনি ছিলেন, সেই বামেদের আব্দুর রেজ্জাক মোল্লা যোগ দেন তৃণমূলের এবং ২০১৬ সালে তাঁকে টিকিট দেন মমতা।
২০১৬ সালে ফের বামেদের হারিয়ে ভাঙড় জিতে নেয় তৃণমূল। দলে থেকেও এই ‘শোক’ মেনে নিতে পারেননি আরাবুল। এরই মধ্যে আবার রেজ্জাকের পাশাপাশি আরাবুলের আর এক প্রতিপক্ষ তৈরি হয় ভাঙড়ে। তিনি হলেন, ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক শওকত মোল্লা। শওকত-আরাবুল গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব দিনের পর দিন তৃণমূলের মাথাব্যথার কারণ হয়ে ওঠে।



নানান সময় দল বিরোধী বক্তব্য করে সমালোচনার শিকার হয়েছেন আরাবুল। ২০১৫ সালে তাঁকে ৬ বছরের জন্য সাসপেন্ডও করে তৃণমূল। যদিও পরে তিনি আবার দলে ফিরে আসেন। লাগাতার গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের মধ্যে একুশের বিধানসভায় ভাঙড় চলে যায় আইএসএফ-এর হাতে। জিতে যান নওশাদ সিদ্দিকী। ক্রমেই ভাঙড় থেকে ফুরিয়ে যেতে থাকেন আরাবুল ইসলাম।
ভাঙড়ে আরাবুল জামানা শেষ? একমাত্র পদ থেকেও জেলবন্দি তাজা নেতাকে সরাল তৃণমূল
এরই মধ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে তাঁকে আহ্বায়ক পদ দেয় তৃণমূল। সেই একমাত্র পদটিও তাঁর থেকে অবশেষে কেড়ে নেওয়া হল। এই মুহূর্তে জেলবন্দি আরাবুল। গত ফেব্রুয়ারি মাসে তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে মোট ১৩টি মামলা করা হয়েছে বলে কলকাতা পুলিশের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন আরাবুল।

সেই সব মামলার তথ্যও প্রকাশ্যে আনা হচ্ছে না বলে অভিযোগ। কলকাতা হাই কোর্ট ইতিমধ্যেই আগামী সোমবার আরাবুলের সমস্ত মামলার তথ্য প্রকাশ করতে নির্দেশ দিয়েছে। তার আগেই আরাবুলকে সাংগঠনিক পদ থেকে সরিয়ে দিল তৃণমূল।







