শাহের দফতরের সামনে তৃণমূল–পুলিশ সংঘর্ষ, আইপ্যাক-অভিযানের প্রতিবাদে দিল্লিতে ধর্না, আটক সাংসদরা

আইপ্যাক-অভিযানের প্রতিবাদে শাহের দফতরের সামনে তৃণমূল সাংসদদের ধর্না ঘিরে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি। কয়েক জন সাংসদকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দিল্লির রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দুতে শুক্রবার সকালে তীব্র উত্তেজনা। আইপ্যাক-অভিযানের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-এর দফতরের সামনে ধর্নায় বসেন তৃণমূল কংগ্রেসের আট সাংসদ। পুলিশ সরাতে গেলে শুরু হয় ধস্তাধস্তি, টেনে-হিঁচড়ে কয়েক জনকে আটক করা হয়—আর তার মধ্যেই জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে সংঘাতের ছবি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

শুক্রবার সকাল আটটার কিছু পরে তৃণমূল কংগ্রেস-এর সাংসদরা নর্থ ব্লকের বাইরে বিক্ষোভ শুরু করেন। অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটের আগে নির্বাচনী কৌশল ‘চুরি’ করা হচ্ছে। ঘণ্টা দেড়েক পর পুলিশ ধর্না তুলতে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা।

বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন ডেরেক ও’ব্রায়েন, মহুয়া মৈত্র, কীর্তি আজাদ, বাপি হালদার, শতাব্দী রায়, সাকেত গোখলে, প্রতিমা মণ্ডল ও শর্মিলা সরকার। ধর্না চলাকালীন টেনে নিয়ে যাওয়া হয় শতাব্দী রায় ও প্রতিমা মণ্ডলকে; বাপি হালদারকে কার্যত কাঁধে তুলে সরায় পুলিশ। সাকেত গোখলেকেও ভ্যানে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁদের পার্লামেন্ট স্ট্রিট (সংসদ মার্গ) থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। ধস্তাধস্তির সময় পুলিশের উদ্দেশে ডেরেক ও’ব্রায়েনকে বলতে শোনা যায়, “আমাদের সাংসদদের গায়ে হাত দেবেন না।”

এই বিক্ষোভের প্রেক্ষাপট রাজ্য সরকার ও তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাক-এর বিরুদ্ধে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট-এর অভিযান। লাউডন স্ট্রিটে আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈন-এর বাড়ি এবং সল্টলেকে সংস্থার দফতরে তল্লাশি ঘিরেই রাজ্য রাজনীতিতে আগুন ছড়ায়। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও একই অভিযোগ তোলেন।

শাহের দফতরের সামনে অশান্তির পর তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও লোকসভার নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এক্সে তীব্র বার্তা দেন। তিনি লেখেন, “গণতন্ত্রকে শাস্তি দেওয়া হয়, অপরাধীদের পুরস্কৃত করা হয়। তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে অস্ত্র বানানো হচ্ছে… পশ্চিমবঙ্গ প্রতিরোধ করবে।”

আইপ্যাক-অভিযানের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকেই রাজ্যের পথে নেমেছে তৃণমূল। হাজরা মোড়ে স্থানীয় নেতৃত্বের বিক্ষোভের পর দলীয় কর্মসূচি ঘোষণা হয়। বিকেল চারটে থেকে প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রতিবাদ মিছিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। শুক্রবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে যাদবপুরের ৮বি বাসস্ট্যান্ড থেকে হাজরা মোড় পর্যন্ত মিছিলের কর্মসূচি রয়েছে। দুপুর দু’টোয় শুরু হতে চলা এই মিছিলে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব প্রথম সারিতে থাকবেন—আর তার আগেই দিল্লিতে তৃণমূল সাংসদদের বিক্ষোভে উত্তেজনার পারদ চড়ে গেল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর