কসবা-কাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সামনে এল নতুন চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। বীরভূমের সিউড়ি ২ নম্বর ব্লকের পঞ্চায়েত সমিতির সভানেত্রী নিজেই জানালেন, তৃণমূলেরই একাংশের বিরুদ্ধে তিনি শ্লীলতাহানি ও মারধরের শিকার হয়েছেন। তাঁর দাবি, তাঁকে রাস্তার মধ্যে ওড়না ধরে টানাটানি করে ফেলে দেওয়া হয় এবং শ্বাসরোধের চেষ্টাও চলে।
কী অভিযোগ করেছেন নেত্রী?
তৃণমূল নেত্রীর অভিযোগ, একটি পঞ্চায়েত কাজের কাগজে সই করতে গিয়েছিলেন তিনি। তখনই নুরুল ইসলাম ঘনিষ্ঠ এই নেত্রীকে লক্ষ্য করে তৃণমূলের অন্য গোষ্ঠীর নেতারা তাঁর চরিত্রহননের অভিযোগ করতে থাকেন। প্রতিবাদ করতেই তাঁর উপর চলে শারীরিক নিগ্রহ। ওই সময় পাশে থাকা আর এক তৃণমূল কর্মীকেও মারধর করা হয়। বর্তমানে তিনিও হাসপাতালে ভর্তি।
চিকিৎসাধীন কর্মী, নেত্রীর গুরুতর অভিযোগঃ
আহত কর্মীকে ভর্তি করা হয়েছে সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। নেত্রীর দাবি, শুধু মানসিক নয়, তাঁর উপর চালানো হয়েছে শারীরিক হেনস্থা। অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘‘ওরা আমার ওড়না টেনে গলায় ফাঁস দেওয়ার চেষ্টা করেছিল।’’ এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়েছে। স্থানীয় নেতৃত্বকে ঘিরে ফের প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
কসবা কাণ্ডের মধ্যেই ফের বিস্ফোরক এক তৃণমূল নেত্রী, ‘ওড়না টেনে খুলে নেয় ওরা…’
গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নাকি রাজনীতি?
তৃণমূলের স্থানীয় রাজনীতিতে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের চিহ্ন নতুন কিছু নয়। অভিযোগকারিণী নেত্রী ব্লক সভাপতি নুরুল ইসলাম-এর অনুগত, আর যাঁরা তাঁর উপর হামলা চালিয়েছেন, তাঁরা নুরুল-বিরোধী গোষ্ঠীর। ফলে এই ঘটনার নেপথ্যে শুধুই অপ্রীতিকর আচরণ, না কি রাজনৈতিক ক্ষমতার লড়াই—তা নিয়েই শুরু হয়েছে জল্পনা।
অভিযুক্তদের পাল্টা বক্তব্যঃ
অভিযুক্ত নেতাদের তরফে দাবি করা হয়েছে, “আমরা পাগল নই যে দিনের আলোয় কাউকে জঙ্গলে নিয়ে যাব।” তাঁরা পুরো অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।
বিজেপির প্রতিক্রিয়াঃ
বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “এই ঘটনার মাধ্যমে প্রমাণ হয়ে গেল, তৃণমূল এখন নিজেদের মধ্যেই লড়াইয়ে ব্যস্ত। এভাবেই তৃণমূলের পতন আসন্ন।”
তিনি দাবি করেন, এর আগেও তৃণমূল নেতা নুরুল ইসলামের বাহিনীর হাতে আক্রান্ত হতে হয়েছিল তাঁকেও।
বারবার বীরভূমে তৃণমূল গোষ্ঠীকোন্দলঃ
বীরভূম জেলায় তৃণমূলের মধ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নতুন নয়। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের মতে, দলের ভেতরে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, প্রতিহিংসা ও নেতৃত্বের সংকট বারবার হিংসার রূপ নিচ্ছে। এই ঘটনা ফের প্রমাণ করে, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ঐক্য এখন প্রশ্নের মুখে।
❓FAQ:
প্রশ্ন: কারা অভিযুক্ত এই শ্লীলতাহানির ঘটনায়?
উত্তর: তৃণমূলেরই এক বিরোধী গোষ্ঠীর নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন সভানেত্রী।
প্রশ্ন: ঘটনাটি কোথায় ঘটেছে?
উত্তর: বীরভূম জেলার সিউড়ি ২ নম্বর ব্লকে।
প্রশ্ন: আহত কর্মীর কী অবস্থা?
উত্তর: তিনি বর্তমানে সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
প্রশ্ন: তৃণমূল নেতৃত্ব এই নিয়ে কী বলেছে?
উত্তর: তৃণমূল নেতৃত্ব এখনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। তদন্ত চলছে।



