লোকসভায় ‘বিদ্রোহী’ সাংসদদের নিয়ে রাজনৈতিক ঝড়ের মধ্যেই এবার রাজ্যসভাতেও ভাঙনের আশঙ্কায় তৃণমূল কংগ্রেস। দিল্লির রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা, তৃণমূলের কয়েকজন রাজ্যসভা সাংসদ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। একইসঙ্গে বহরমপুরের সাংসদ ইউসুফ পাঠানকে ঘিরেও নতুন করে শুরু হয়েছে জল্পনা।
সোমবারের রাজনৈতিক নাটকীয়তার পর মঙ্গলবারও দিল্লির অলিন্দে তৃণমূলকে ঘিরে গুঞ্জন থামেনি। বিজেপি সূত্রে দাবি, সোমবার গভীর রাতে তৃণমূলের তিন রাজ্যসভা সাংসদ এক প্রভাবশালী বিজেপি নেতার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। যদিও এই বৈঠকের বিষয়ে কোনও পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খোলেনি।
এর আগে সোমবার রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়ের ইস্তফা ঘিরে তৃণমূলে অস্বস্তির সূচনা হয়। তারপর দিনের পর দিন একাধিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে চাপ আরও বাড়িয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
জল্পনা রয়েছে, লোকসভার একাধিক তৃণমূল সাংসদ এনডিএ শিবিরে যোগদানের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। সেই প্রেক্ষাপটে রাজ্যসভাতেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বর্তমানে রাজ্যসভায় তৃণমূলের সদস্য সংখ্যা ১২। দলীয় সূত্রে যদিও এই ধরনের জল্পনাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না।
অন্যদিকে, বহরমপুরের সাংসদ ইউসুফ পাঠান-এর ভবিষ্যৎ নিয়েও নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। তাঁর ইস্তফার সম্ভাবনা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। যদিও এই বিষয়ে ইউসুফ বা তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
পরিস্থিতির মধ্যে দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কীর্তি আজাদ। সেখানে দলীয় অবস্থান স্পষ্ট করার চেষ্টা করেন তাঁরা। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “তোমাদের ক্ষমতা, টাকা, এজেন্সি, সিকিউরিটি, প্রপার্টি সব আছে। আমাদের আছে মা, মাটি, মানুষ।”
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এখন পর্যন্ত রাজ্যসভার তিন সাংসদের সম্ভাব্য বিদ্রোহ বা দলবদলের বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি। ফলে বিষয়টি এখনও জল্পনার পর্যায়েই রয়েছে। তবুও লোকসভার ঘটনাবলির পর রাজ্যসভা নিয়েও যে চাপ বাড়ছে, তা অস্বীকার করা কঠিন।
আগামী কয়েক দিনে তৃণমূলের সাংসদদের অবস্থান এবং দিল্লির রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই নজর থাকবে। কারণ লোকসভার পর রাজ্যসভাতেও যদি দলীয় ভাঙনের ইঙ্গিত বাস্তব রূপ নেয়, তবে তা জাতীয় রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।



