কয়েকমাস আগে অভিনেতা তথা তৃণমূলের সাংসদ দীপক অধিকারী ওরফে দেবের রাজনীতি ছেড়ে দেওয়া কার্যত স্থির হয়ে গিয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকের পর থেকে গিয়েছেন তারকা সাংসদ। সাংসদের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে দেবের প্রথম উদ্দেশ্য ছিল ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান সফল করা। দশ বছরেও কেন্দ্র সহযোগিতা করেনি বলে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন তিনি। এরপর মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন রাজ্য সরকার ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের (Ghatal Master Plan) টাকা দেবে। রবিবার তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় ঘাটাল কেন্দ্র থেকে দেবের নাম ঘোষণা করা হয়। অন্যদিকে বিজেপি ওই আসনে প্রার্থী করেছে তারকা বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়।



আরও পড়ুন: ইতিহাসের পাতায় গুরুত্বপূর্ণ ১৩ মার্চ, একনজরে আজকের দিনের উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলী
দীর্ঘদিন ধরেই জল্পনা ছিল আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে (Loksabha Election 2024) ঘাটালে দেবের বিপরীতে হিরণ চট্টোপাধ্যায়কে প্রার্থী করতে পারে বিজেপি। তার মাঝেই দেব রাজনীতি ছাড়ার কথা বলেন। সব মিলিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছিল। চলতি মাসের শুরুতেই বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বাংলার ২০ আসনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে। ঘাটাল কেন্দ্র থেকে টিকিট পান খড়গপুরের দলীয় বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়। বিভিন্ন ইস্যুতে দেবকে আক্রমণ করেছেন হিরণ। গরু পাচার মামলায় কেন্দ্রীয় এজেন্সি তলব করেছিল। এনিয়ে বিজেপি বিধায়ক দাবি করেছিলেন, দুর্নীতির কালো টাকা দিয়ে সিনেমা বানিয়েছেন দেব। তারকা সাংসদ এর পাল্টা জবাব দিয়েছিলেন। এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন এই দুজনেই।

ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের নাম ঘোষণা হতেই এলাকার কর্মী সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গিয়েছে। ঘাটালের বিজেপি বিধায়ক বলেছিলেন, ‘হিরণ চক্রবর্তী খড়গপুরের বিধায়ক, একজন হিরো। ওনাকে প্রার্থী হিসেবে পেয়ে আমরা খুশি। তাঁকে জয় পাইয়ে দেওয়া আমাদের লক্ষ্য।’ অন্যদিকে দেব ঘাটালের দুবারের সাংসদ। দুবারই বিপুল ভোটে জয় পেয়েছিলেন তিনি। তাই এবারেও তাঁকেই এগিয়ে রাখছে ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ। তবে লড়াই হাড্ডাহাড্ডি হবে সেবিষয়ে সন্দেহ রাখছে না কেউই।


আসন জিততে তৃণমূলের ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান, দেব বনাম হিরণে এগিয়ে কে?

২০১৪ সালে দেবকে প্রথমবার লোকসভা নির্বাচনে (Loksabha Election 2014) প্রার্থী করে তৃণমূল। বিপুল ভোটে জয়লাভ করে ঘাটালের সাংসদ হন তিনি। ২০১৯-এও তাঁর উপরেই ভরসা রাখে ঘাটালবাসী। রাজনীতি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলে মমতা ও অভিষেক তাঁর সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপরই দেব জানিয়েছিলেন, ‘আমি রাজনীতি ছাড়তে চাইলেও, রাজনীতি আমায় ছাড়বে না।’







