পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যসভায় জহর সরকারের শূন্য আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। একসময়ে সিপিএমের প্রভাবশালী নেতা থাকলেও বর্তমানে তিনি তৃণমূলের গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক। তাঁর এই নিয়োগ নিয়ে দলীয় কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।
পূর্বতন তৃণমূল সাংসদ জহর সরকার গত সেপ্টেম্বরে আরজি কর হাসপাতালের ঘটনার প্রতিবাদে পদত্যাগ করেন। সেই সময় তিনি রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার কথাও ঘোষণা করেছিলেন। তাঁর চিঠিতে উঠে আসে তৃণমূল সরকারের বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ। জহর সরকারের ইস্তফার পর এই আসনটি এত দিন শূন্য ছিল।
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় একসময় সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআইয়ের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের স্নেহভাজন ঋতব্রত ২০১৪ সালে সিপিএমের টিকিটে রাজ্যসভায় নির্বাচিত হন। কিন্তু বিতর্কিত ঘটনার জেরে ২০১৭ সালে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
এরপর তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন এবং ২০২১ সালে তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসির রাজ্য সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান। সংগঠনকে শক্তিশালী করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
তৃণমূলের পক্ষ থেকে সমাজমাধ্যমে ঘোষণা করা হয়েছে, ‘‘রাজ্যসভার উপনির্বাচনে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের প্রার্থী। তিনি রাজ্যসভায় তৃণমূলের যোগ্য প্রতিনিধিত্ব করবেন এবং মানুষের অধিকারের কথা বলবেন।’’ তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঋতব্রতকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেছেন, ‘‘তিনি এই মর্যাদা পাওয়ার যোগ্য। তাঁর পরিশ্রমের সঠিক মূল্যায়ন হল।’’
ঋতব্রতকে রাজ্যসভায় প্রার্থী করার সিদ্ধান্তে তৃণমূল রাজ্যের শ্রমিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক আরও মজবুত করতে চাইছে। পাশাপাশি, তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং সাংগঠনিক দক্ষতা উচ্চকক্ষে তৃণমূলের পক্ষে শক্তিশালী অস্ত্র হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।



