গত বছরের ৯ অগস্ট, আরজি করের সেমিনার হল থেকে মর্মান্তিকভাবে খুন হন তিলোত্তমা। ধর্ষণ ও হত্যার এই ঘটনা মর্মাহত করেছে সারা শহরকে। আজ, ছয় মাস পর, তাঁর জন্মদিন (৯ ফেব্রুয়ারি) আসতে চলেছে এবং সেই দিনই তার বাবা-মা এক বড় আন্দোলন ডাকছেন। ৯ ফেব্রুয়ারি, তাদের মেয়ের জন্মদিনে তাঁরা দাবি জানাচ্ছেন, “এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার পেতে হবে এবং তিলোত্তমার হত্যাকারী শুধুমাত্র সঞ্জয় রায় নয়, আরও অন্যদেরও বিচার করতে হবে।”
তিলোত্তমার বাবা-মায়ের বড় আন্দোলনের ডাক


তিলোত্তমার বাবা-মা বারবার দাবি করেছেন, যে সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে তিলোত্তমার হত্যার দায়ে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাঁকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, তা যথেষ্ট নয়। তাঁরা বিশ্বাস করেন যে, এই হত্যাকাণ্ডে আরও একাধিক ব্যক্তি জড়িত রয়েছেন, এবং তাঁদেরও বিচারের আওতায় আনতে হবে। তিলোত্তমার মা এই বিষয়টি সামনে এনে বলেছেন, “এই ৬ মাস কেটে গেছে, কিন্তু আমাদের মেয়ে আজও ন্যায়বিচার পায়নি।”
৯ ফেব্রুয়ারি রাস্তায় নামবে তিলোত্তমার পরিবার ও সমর্থকরা
তিলোত্তমার মা জানিয়ে দেন যে, ৯ ফেব্রুয়ারি, তাদের মেয়ের জন্মদিনে তাঁরা এক বড় আন্দোলনে অংশ নেবেন। “আমরা ৯ ফেব্রুয়ারি রাস্তায় থাকব এবং বৃহত্তর পরিবারের কাছে আবেদন জানাই, আপনাদের সঙ্গে নিয়ে আমরা আমাদের মেয়ের বিচারের জন্য আওয়াজ তুলব,” বলেন তিনি। তিলোত্তমার মা আরো জানান, মেয়ের মৃত্যুর বিচার না হওয়া পর্যন্ত তাদের লড়াই চলবে।


ফুলগাছ লাগানোর আহ্বান
তিলোত্তমার মা তার মেয়ের স্মৃতিতে একটি বিশেষ অনুরোধ করেছেন। তিনি বলেছেন, “আমাদের মেয়ে ফুলগাছ খুব ভালোবাসত। তাই, ৯ ফেব্রুয়ারি সবাইকে অনুরোধ জানাচ্ছি, কর্মক্ষেত্রে কিংবা বাড়িতে একটি করে ফুলগাছ লাগান।” এই ছোট্ট উদ্যোগের মাধ্যমে তাঁরা তিলোত্তমার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাতে চান।
অন্যদিকে, বিচার ব্যবস্থা নিয়ে শঙ্কা
তিলোত্তমার বাবা-মা এও বলেছেন, “এখনও পর্যন্ত কেবল সঞ্জয় রায়কে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। তবে, তাদের সন্দেহ, অন্যান্য অপরাধীরাও এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত। সেই অপরাধীদেরও শাস্তি হওয়া উচিত।” তাঁদের মতে, এই ধরনের গুরুতর অপরাধের বিচারে আরো সুষ্ঠু ও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
তিলোত্তমার মৃত্যু যেন শুধু একটি বিচারের বিষয় না হয়ে ওঠে, বরং এটি একটা আন্দোলনে পরিণত হয়। তিলোত্তমার বাবা-মায়ের ৯ ফেব্রুয়ারি রাস্তায় নামার আহ্বান এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে, যেখানে মানুষ তাঁদের প্রতিবাদী আওয়াজ তুলবে এবং এই অমানবিক ঘটনার বিচার চেয়ে সরকারকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে চাপ দেবে। তিলোত্তমার পরিবার তাদের মেয়ের ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই চালিয়ে যাবে, এবং এই আন্দোলন আরো বেশি শক্তিশালী হবে, যদি আরও মানুষ তাদের সাথে যোগ দেয়।







