RG Kar-কাণ্ডের দু’বছর পর ফের তদন্তের পরিধি বাড়ল। আরজি কর-কাণ্ডে মৃত তরুণী চিকিৎসকের দেহ সৎকার ঘিরে ওঠা অভিযোগের ভিত্তিতে নতুন করে FIR দায়ের করেছে পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশের পরই তিলোত্তমার বাবা খড়দহ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে পুলিশ সূত্রে খবর। অভিযোগে পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ (Nirmal Ghosh), সোমনাথ দে এবং সন্দীপ মুখোপাধ্যায়ের নাম রয়েছে।
গত রবিবার তিলোত্তমার স্মরণে আয়োজিত সভায় উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সেখানেই তিনি দাবি করেন, তিলোত্তমার দেহ সৎকারের সময় পরিবারের তরফে প্রয়োজনীয় অর্থ দেওয়া হয়নি এবং নির্দিষ্ট নথিতে পরিবারের সদস্যের স্বাক্ষরও ছিল না। এই প্রসঙ্গে নির্মল ঘোষ, সোমনাথ দে এবং সন্দীপ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
সেই সভার মঞ্চ থেকেই ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনারকে নতুন করে মামলা শুরু করার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। দ্রুত পদক্ষেপ করার কথাও জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য ছিল, তিলোত্তমার বিচার নিয়ে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং তাঁকে ভুলে যাওয়া হয়নি।
এর পরেই নড়েচড়ে বসে পুলিশ। এক দিনের মধ্যেই তিলোত্তমার বাবা খড়দহ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন বলে জানা গিয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তিন জনের বিরুদ্ধে নতুন FIR দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, তথ্যপ্রমাণ লোপাটের চেষ্টা, ভয় দেখানো এবং জোর করে আটকে রাখার মতো একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
তিলোত্তমার দেহ সৎকারের বিষয়টি নিয়ে এর আগেও অভিযোগ সামনে এসেছিল। ২০২৬ সালের মে মাসে প্রকাশিত একটি রিপোর্টে তিলোত্তমার বাবা নির্মল ঘোষ, সোমনাথ দে এবং সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দ্রুত সৎকারের উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন। সৎকার সংক্রান্ত শংসাপত্রে স্বাক্ষর নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল।
তবে নতুন FIR-এ ওঠা অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ। কার নির্দেশে কী ভাবে সৎকারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছিল, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা কী ছিল এবং কোনও তথ্যপ্রমাণ গোপন বা নষ্ট করার চেষ্টা হয়েছিল কি না—এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই তদন্ত এগোবে।
আরজি কর-কাণ্ডের দু’বছর পূর্তির আবহে নতুন করে FIR দায়ের হওয়ায় তিলোত্তমা-কাণ্ডের তদন্ত ফের আলোচনার কেন্দ্রে। এখন পুলিশের তদন্তে এই অভিযোগগুলির ভিত্তি কতটা শক্তিশালী, অভিযুক্তদের ভূমিকা সম্পর্কে কী তথ্য সামনে আসে এবং পরবর্তী সময়ে কী আইনি পদক্ষেপ করা হয়, সেদিকেই নজর থাকবে।



