নজরবন্দি ব্যুরোঃ এখনই করোনার ভ্যাকসিন হাতে পাওয়ার আশা না করাই ভাল। অন্তত ২০২১-এর শুরুর দিক পর্যন্ত। বিশ্বব্যাপী একাধিক করোনার ভ্যাকসিন নিয়ে আশার বাণী শোনা গেলেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা WHO একেবারেই তাড়াহুড়ো করার পক্ষে নয়। বুধবার তাঁরা সাফ জানিয়ে দিল, করোনা ভ্যাকসিন তৈরির লক্ষ্যে গবেষকরা অনেকটাই এগিয়েছেন। কিন্তু ২০২১-এর শুরুর দিকের আগে বাজারে ভ্যাকসিন আসার প্রত্যাশা না করাই ভাল বললেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-র ইমার্জেন্সি প্রোগ্রামের একজিকিউটিভ ডিরেক্টর ডক্টর মাইক রায়ান।
আরও পড়ুনঃ সংক্রমণের ধারা অব্যাহত, আবার রেকর্ড দেশে।


বুধবার জেনেভার একটি কনফারেন্সে রায়ান বলেন, ‘আমরা খুব ভাল কাজ করেছি। তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল চলছে কয়েকটি ভ্যাকসিনের। সেই ট্রায়ালের রিপোর্টও ভালর দিকেই। তবে তিন পর্যায়ের ট্রায়াল শেষ করে প্রথম ভ্যাকসিন আসতে আরও কিছু সময় লাগবে। ২০২১ সালের আগে সেটা সম্ভব নয়।’ করোনা মোকাবিলায় বিশ্বে এখনও অবধি ১৪০ রকমের ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ চলছে। তার মধ্যে ১৪ রকমের ভ্যাকসিনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ হচ্ছে মানুষের শরীরে। ভ্যাকসিন দৌড়ে এগিয়ে রয়েছে ব্রিটেনের অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রজেনেকা, আমেরিকার মোডার্না বায়োটেক, চিনের সিনোভ্যাক ফার্মাসিউটিক্যাল।
এর মধ্যে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি তাদের প্রথম পর্যায়ে ভ্যাকসিন ট্রায়ালের রিপোর্ট সামনে এনেছে। দাবি করা হয়েছে, ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজেই অন্তত ৯০% মানুষের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে শরীরের টি-কোষ সক্রিয় হয়ে উঠেছে। অ্যান্টিবডি ও টি-কোষের যুগলবন্দিতে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে উঠছে। মোডার্না বায়োটেক আরএনএ টেকনোলজিতে ভ্যাকসিন বানাচ্ছে। প্রসঙ্গত এই মুহূর্তে বিশ্বে মোট করোনা আক্রান্ত ১ কোটি ৫১ লক্ষ ৬৬ হাজার ৪০১ জন। এই মুহূর্তে বিশ্বে সবথেকে বেশি করোনা বিধ্বস্ত দেশটি হল আমেরিকা। সেখানে মোট করোনা আক্রান্ত ৩৯ লক্ষ ৬৭ হাজার ৯১৭ জন। করোনার বলি হয়েছেন ১ লক্ষ ৪৩ হাজার ১৪৭ জন। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ব্রাজিলে মোট করোনা আক্রান্ত ২২ লক্ষ ২৭ হাজার ৫১৪ জন। সেখানে মৃত্যু মিছিলে শামিল ৮২ হাজার ৭৭১ জন। এই মুহূর্তে তৃতীয় স্থানে থাকা ভারতে মোট করোনা আক্রান্ত ১২ লক্ষ ৩৮ হাজার ৬৩৫ জন।
চতুর্থ থানে থাকা রাশিয়াতে মোট আক্রান্ত ৭ লক্ষ ৮৭ হাজার ৮৯০ জন। দক্ষিণ আফ্রিকাতে ৩ লক্ষ ৯৪ হাজার ৯৪৮ জন। পেরুতে ৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ৫৫০ জন। মেক্সিকোতে ৩ লক্ষ ৬২ হাজার ২৭৪ জন। চিলিতে করোনা আক্রান্ত ৩ লক্ষ ৩৪ হাজার ৬৮৩ জন। ইংল্যান্ডে মোট করোনা আক্রান্ত ২ লক্ষ ৯৭ হাজার ৯৫২ জন। ইরানে ২ লক্ষ ৮১ হাজার ৪১৩ জন করোনার শিকার। স্পেনে সংক্রামিত ২ লক্ষ ৬৭ হাজার ৫৫১ জন। পাকিস্তানে ২ লক্ষ ৬৭ হাজার ৪২৮ জন। সৌদি আরবে ২ লক্ষ ৫৮ হাজার ১৫৬ জন। ইটালিতে ২ লক্ষ ৪৫ হাজার ৩২ জন করোনায় সংক্রামিত। তুরস্কে মোট করোনা রোগী ২ লক্ষ ২২ হাজার ৪০২।









