নজরবন্দি ব্যুরোঃ কোভিড পজিটিভ ধরা পড়ার পরই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ছিলেন তিনি, চলছিল বেঁচে থাকার লড়াই। কিন্তু টানা ২৭ দিনের লড়াই শেষ হল আজ সকাল ৮ টা ১২ মিনিটে, অন্য সুরলোকে চলে গেলেন ভারতের সুর সম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকর। সরস্বতী পুজোর দিনই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতিতে চিকিৎসকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছিল। আর আজ, ২৪ ঘন্টার মধ্যেই সব শেষ।
আরও পড়ুনঃ CPIM: সশস্ত্র মহিলা বাহিনীর হাতে কিডন্যাপ বাম পঞ্চায়েত সদস্য, অভিযোগে তৃণমূলের দিকে


মৃত্যুকালে কিংবদন্তী সঙ্গীতশিল্পী লতা মঙ্গেশকরের বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় গত ১১ জানুয়ারি তাঁকে মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল। কোভিডের সাথে লড়তে লড়তে নিউমোনিয়াতে আক্রান্ত ছিলেন এই প্রবাদ প্রতীম শিল্পী। আইসিইউ-তে চলছিল বেঁচে থাকার লড়াই। সেই লড়াই সামলে ৩০ জানুয়ারি কোভিড মুক্ত হল শিল্পী। কিন্তু বয়সজনিত নানা সমস্যার কারণে শেষ পর্যন্ত আর লড়তে পারলেন না তিনি। আজ সকালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন ভারতের কোকিলকণ্ঠী।

২০১৯ সালে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন হাসপাতালে। যমে মানুষে টানাটানি হয়েছিল সেই বার। কিন্তু মনের জোরে মৃত্যুকে পরাস্ত্র করেছিলেন লতা মঙ্গেসকার। সেই লড়াইয়ের ইতিহাস বিশ্বের অগনিত ভক্তকে ভরসা দিচ্ছিল, এবারও তিনি ফিরে আসবেন তিনি। এই আশাতেই প্রার্থনা জানাচ্ছিলেন সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা তাঁর অগণিত ভক্ত। কিন্তু এবার আর হলনা। সবার আশা অপূর্ণ রেখে ইহলোক ত্যাগ করলেন লতা।


১৯২৯ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর এক মারাঠি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন লতা মঙ্গেশকর। তারপর বাবার হাত ধরেই অভিনয় এবং গান শিখতে শুরু করেন। ১৩ বছর নাগাত প্রথম বার মরাঠি ছবিতে গান করেছিলেন তিনি। তবে তারপরেই বাবাকে হারান লতা। পরে সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে শুরু হয় লড়াই। মুম্বই যাওয়ার পর ১৯৪৮ সালে প্রথম হিন্দি ছবিতে গান গাওয়ার সুযোগ পান। ছবির নাম ‘মজবুর’।
স্তব্ধ হল কোকিলকণ্ঠ, প্রয়াত সুর সম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকর

১৯৪২ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে গানের জগতে আসেন লতা। বিভিন্ন ভারতীয় ভাষায় ৩০,০০০ গান গেয়েছেন তিনি। তাঁকে ভারতের কোকিলকণ্ঠী বলা হয়। একাধিক সম্মানে ভূষিত হয়েছেন তিনি। পেয়েছেন ভারতরত্ন, পদ্মভূষণ, পদ্মবিভূষণ, দাদা সাহেব ফালকে ও একাধিক জাতীয় পুরস্কারও।







