বীর্য বিভ্রাট, নির্যাতিতার যোনিতে ১৫১ গ্রাম তরল নমুনার রিপোর্ট আসার আগেই হয়ে গেল বিচার!

সুবর্ণের মতে, ‘‘আমাদের সংবিধান বলে, এক জন নিরপরাধও সাজা পাবে না। তবে এই মামলায় তরলের প্রকৃতি চিহ্নিত না হওয়া বিচার প্রক্রিয়ার একটি বড় ফাঁক হতে পারে।’’

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসক পড়ুয়ার রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় ময়নাতদন্তে পাওয়া ১৫১ গ্রাম ‘সাদা ঘন চটচটে তরল পদার্থ’ নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। ময়নাতদন্তে উল্লেখ করা হলেও, সেই তরলের প্রকৃতি সম্পর্কে কোনও নির্দিষ্ট মন্তব্য করা হয়নি।
৯ আগস্ট, আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের চারতলার সেমিনার হলে নির্যাতিতার মৃতদেহ উদ্ধার হয়। ময়নাতদন্তে যে তরল পদার্থের উল্লেখ ছিল, সেটি আসলে কী, তা আজও অজানা। ফরেন্সিক রিপোর্ট বলছে, যোনিতে বীর্যের কোনও চিহ্ন মেলেনি।

সুবর্ণ গোস্বামীর বক্তব্যে বিতর্ক

আরজি করের আন্দোলনের অন্যতম নেতা ও চিকিৎসক সুবর্ণ গোস্বামী বলেছিলেন, “১৫১ গ্রাম তরল পদার্থ পাওয়া গেছে, যা সম্ভবত রক্তমাখা বীর্য।” তবে এই মন্তব্যের পর থেকেই বিতর্ক শুরু হয়। কারণ, সাধারণত একটি পুরুষ দেহ থেকে ১.৫ থেকে ৫ মিলিলিটার বীর্য নিঃসরণ হয়। তাহলে কি ৩০ জনের মতো অপরাধীর ভূমিকা ছিল? এই প্রশ্নে শোরগোল পড়ে যায়।

ফরেন্সিক রিপোর্ট কী বলছে?

‘কেন্দ্রীয় ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি’ (সিএফএসএল) ওই তরলের রাসায়নিক বিশ্লেষণ শেষ করতে পারেনি। দিল্লি এমস-এর নেতৃত্বাধীন বিশেষজ্ঞ দলও তরলটির প্রকৃতি নির্ধারণ করতে ব্যর্থ। বিশেষজ্ঞরা যোনিতে বীর্যের চিহ্ন না মেলার তিনটি সম্ভাব্য কারণ উল্লেখ করেছেন:

১) অপরাধী কন্ডোম ব্যবহার করেছিল।
২) পুরুষাঙ্গের বদলে শরীরের অন্য কোনও অংশ (যেমন আঙুল) ব্যবহার করা হয়েছিল।
৩) কোনও শক্ত, ভোঁতা বস্তু জোর করে প্রবেশ করানো হয়েছিল।

ময়নাতদন্তে কী পাওয়া গিয়েছে?

ময়নাতদন্ত রিপোর্টে নির্যাতিতার ‘এন্ডোসার্ভিক্যাল ক্যানাল’ থেকে ‘সাদা ঘন চটচটে তরল পদার্থ’ পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে সেটি বীর্য কিনা, তা নির্ধারণ করা যায়নি।

তরলের প্রকৃতি নিয়ে সংশয়

চিকিৎসক সুবর্ণ গোস্বামীর প্রশ্ন, “সিএফএসএল এখনও ওই তরলের রাসায়নিক বিশ্লেষণের রিপোর্ট দেয়নি। যদি এটি বীর্য হয়, তাহলে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নির্যাতনে জড়িতদের শনাক্ত করা যেত। কিন্তু, সেই তরল পদার্থের প্রকৃতি স্পষ্ট নয়। তাহলে কি এটি কোনও শক্ত, ভোঁতা অস্ত্র দিয়ে নির্যাতিতার যোনিতে ঢোকানো হয়েছিল?”

পরিবারের অভিযোগ

নির্যাতিতার বাবা-মা শিয়ালদহ আদালতে জানিয়েছেন, এই ঘটনা এক জনের পক্ষে ঘটানো সম্ভব নয়। অন্তত ৮-১০ জনের ভূমিকা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিচার প্রক্রিয়ায় ফাঁক?

মামলার রায়ে একমাত্র অভিযুক্ত সঞ্জয় রায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। তবে অন্যান্য ডিএনএ নমুনাগুলি চিহ্নিত না হওয়ায় সেগুলিকে ‘দূষিত’ বলা হয়েছে। সুবর্ণের মতে, ‘‘আমাদের সংবিধান বলে, এক জন নিরপরাধও সাজা পাবে না। তবে এই মামলায় তরলের প্রকৃতি চিহ্নিত না হওয়া বিচার প্রক্রিয়ার একটি বড় ফাঁক হতে পারে।’’

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত