নজরবন্দি ব্যুরোঃ দিনমজুরের কাজও জুটছে না, রাজ্যের মন্ত্রীদের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছেন হাজার খানেক শিক্ষক! রাজ্যে দীর্ঘদিন সঠিক সময়ে এস এস সি পরীক্ষা না হওয়ার জন্য রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি সাহায্য প্রাপ্ত বিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষকের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এই ঘাটতি পূরণের জন্য বিদ্যালয়ের পরিচালন সমিতিগুলো বিভিন্ন বিদ্যালয়ে আংশিক সময়ের শিক্ষক নিয়োগ করে থাকেন। মূলত বাম আমল থেকেই বিদ্যালয়ে আংশিক সময়ের শিক্ষক নিয়োগ হয়ে আসছে। বিদ্যালয়ের এই আংশিক সময়ের শিক্ষকদের সামান্য বেতন দেওয়া হয় বিদ্যালয় ফান্ড থেকে।
আরও পড়ুনঃ শুভেন্দুর গড়ে বিপর্যয় BJP-র, মহিলা মোর্চার সভানেত্রী সহ ৩৫০ কর্মী যোগ দিলেন তৃণমূলে।


মাসিক এক হাজার থেকে তিন হাজার ২০০ টাকা বেতন দেওয়া হয় এই শিক্ষকদের। অথচ একজন স্থায়ী শিক্ষকের সমান তাদেরকে ক্লাস করতে হয়। এমনকি মিড-ডে-মিল, বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, খেলাধুলা সমস্ত কাজেই তাদেরকে পরিচালনা করতে হয়। অথচ তাদের কাজের কোন স্থায়ীত্ব নেই। এস এস সি থেকে স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ করা হলেই এই সব আংশিক সময়ের শিক্ষকদের বিদ্যালয় থেকে ছাড়িয়ে দেওয়া হয়। তাই কাজের স্থায়ীকরণের জন্য বারবার তারা সরকারের কাছে আবেদন করেছেন।
এই করোনা পরিস্থিতিতে অনেক বিদ্যালয় তাদের সামান্য বেতনটুকু পর্যন্ত দিচ্ছে না। এই করোনাকালে তারা বাধ্য হয়ে গৃহশিক্ষকতা বন্ধ রেখেছেন। তাই তাদের পক্ষে সংসার চালানো দুঃসাধ্য হয়ে উঠেছে। সাম্মানিক কম হলেও গৃহ-শিক্ষকতা করে মোটামুটি উপার্জন করতেন তাঁরা। কিন্তু করোনা আবহে সে সব আজ অতীত। এখন দিনমজুরি করেন বেশিরভাগ শিক্ষক। তবে রোজ কাজ জোটে না। জুটলে রোজগার হয় দিনে ৩০০ টাকা।
এদিকে এই শিক্ষকদের ডিগ্রি কোন স্থায়ী শিক্ষকদের থেকে কম নয়। এনাদের বেশিরভাগই এমএ বিএড পাশ করে চাকরি না পেয়ে নিতান্ত বাধ্য হয়েই আংশিক সময়ের শিক্ষকের কাজে ঢুকেছিলেন। একজন স্থায়ী সহ শিক্ষকদের সমান কাজ করে সংসার চলার মত টাকা না পেলেও, জুটত গৃহ শিক্ষকতার কাজ। তবে সেসব ২০১৯ সালে, তখন করোনা ভাইরাস কি জিনিশ জানতনা কেউ।


দিনমজুরের কাজও জুটছে না, রাজ্যের মন্ত্রীদের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছেন হাজার খানেক শিক্ষক! এখন এতটাই খারাপ অবস্থা যে দিনমজুরের কাজও জুটছে না। এই অবস্থায় পার্ট টাইম স্কুল টিচার্স এন্ড এমপ্লয়িজ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন নয়া পদ্ধতি নিয়েছে নিজেদের দুঃখের কথা বর্ননা করার। তাঁরা পৌঁছে যাচ্ছেন রাজ্যের একের পর এক সম্মানীয় মন্ত্রী-বিধায়কদের কাছে। মন্ত্রী হওয়ার জন্যে সম্বর্ধনা দিচ্ছেন আর স্মারকলিপি। সাথে অনুরোধ আমাদের একটু দেখুন।







