নিজ জেলায় বদলি নিয়ে ১২ দফা দাবি শিক্ষকদের, উদ্যোগী খোদ মুখ্যমন্ত্রী!

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ নিজ জেলায় বদলি নিয়ে ১২ দফা দাবি শিক্ষকদের, বদলি নিয়ে একাধিকবার সোচ্চার হয়েছে বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন। সেই দাবি পৌঁছেছিল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের কানেও। তাঁরপর মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে আবেদনের ভিত্তিতে নিজের জেলায় শিক্ষকদের বদলি করার সিদ্ধান্ত নেয় শিক্ষা দফতর। কয়েকদিন আগে মুখ্যমন্ত্রী জানান যতজন শিক্ষক-শিক্ষিকা বদলির আবেদন করেছিলেন তাঁর মধ্যে বেশিরভাগ আবেদন ইতিমধ্যেই মঞ্জুর হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ হাজার সতর্কতার মধ্যেও একদিনে ৬ থেকে ২০ তে দাঁড়ালো দেশে নয়া স্ট্রেনের আক্রান্তের সংখ্যা।

নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, হোম ট্রান্সফারের জন্য ৫ হাজার ৫০২ জন বদলি চেয়ে আবেদন করেছিলেন। তার মধ্যে ৩ হাজার ৮৫২ জনকে ট্রান্সফার করে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, উচ্চমাধ্যমিক স্তরে বদলির জন্য আবেদন করেছিলেন ৪ হাজার ৫৯৪ জন। ইতিমধ্যে ৪ হাজার ৪৯০টি আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে। নবান্ন সূত্রে খবর শিক্ষকদের নিজ জেলায় বদলির ইস্যুটি নিজেই মনিটর করছেন মুখ্যমন্ত্রী।

এদিকে ট্রান্সফার নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে মুখ্যমন্ত্রীর জেলা বদলির ঘোষণার বাস্তবায়নের দাবি তুললো শিক্ষক সংগঠন। পশ্চিমবঙ্গের অরাজনৈতিক শিক্ষক সংগঠন ” অল পোস্ট গ্র‍্যাজুয়েট টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন” (রেজিঃ নং- S0008059) এর পক্ষ থেকে বিদ্যালয় ও শিক্ষার স্বার্থে রাজ্যের সমস্ত ইচ্ছুক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের জন্য ট্রান্সফার সংক্রান্ত বিষয়ে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, কমিশনার, শিক্ষা সচিব সহ অন্যান্য শিক্ষা আধিকারিকদেরকে নিন্মরুপ বিষয়গুলি দ্রুত সমাধানের জন্য আবেদন করা হয়েছে। মূলত ১২ দফা দাবি করেছেন শিক্ষকরা।

(১) মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর পূর্ব ঘোষণা মতো সকল ইচ্ছুক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর জন্য ডিস্ট্রিক্ট ট্রান্সফার অতিসত্বর চালু করতে হবে।
গত ২২ শে ডিসেম্বর,২০২০ তারিখে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মাধ্যমিক স্কুল স্তরে জেলা বদলির তথ্য পরিবেশন করলেও তা বাস্তবে স্পেশাল গ্রাউন্ড ট্রান্সফার। এই স্পেশাল গ্রাউন্ড ট্রান্সফারের ৫৫০২ আবেদনকারীর মধ্যে ৩৮৫২ আবেদনকারী বদলি হয়েছেন। সুতরাং, মাধ্যমিক স্কুল ও মাদ্রাসা স্তরে জেলা বদলি এখনও চালু হয়নি, তাই মুখ্যমন্ত্রীর পূর্ব ঘোষণা মতো সকলের জন্য ডিস্ট্রিক্ট ট্রান্সফার অবিলম্বে শুরু করতে হবে শিক্ষা দপ্তরকে।

(২) দীর্ঘ কয়েক বছর বন্ধ থাকা জেনারেল ট্রান্সফার দূরত্ব ও অভিজ্ঞতাকে যোগ্যতামান বিবেচনা করলে অনলাইন মাধ্যমে অবিলম্বে শুরু করতে হবে।গত ০২/১১/২০১৬ তারিখে Wbsed অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ও ২২/১১/২০১৭ তারিখে School Education Department এর মাধ্যমে সমস্ত প্রকার ট্রান্সফারের আবেদন জমা বন্ধের নোটিশ থাকলেও MIC দপ্তরে Special Ground হিসাবে General Transfer আবেদন জমা পড়েছে। এই সংক্রান্ত কোন সুস্পষ্ট তথ্য প্রকাশিত হয়নি। কিন্তু সকলের জন্য জেনারেল ট্রান্সফার শুরু হয়নি।

(৩) গত ০৭/১০/২০২০ তারিখে শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষণা মতো, এসএসসি অফিসে জমা দেওয়া মিউচুয়াল ফর্মের ভিত্তিতে গত ২রা নভেম্বর ৫১০ জনের রেকোমেন্ডেশন প্রকাশিত হলেও বাকী ফর্মের রেকোমেন্ডেশন লেটার এখনও প্রকাশিত হয়নি। এগুলো অবিলম্বে প্রকাশ করতে হবে।
(৪)অনলাইন মিউচুয়াল ট্রান্সফারের সুস্পষ্ট একটি নোটিফিকেশন অবিলম্বে প্রকাশ করতে হবে। চালু অনলাইন মিউচুয়াল ট্রান্সফারে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, আপস বদলিতে ৪৫৯৪ জন আবেদনকারীর মধ্যে ৪৪৯০ জন রেকোমেন্ডেশন অর্ডার পেয়েছেন। এই অর্ডারের ২য় ও ৩য় দফার রেকোমেন্ডেশন পর্ষদ থেকে এখনও প্রকাশিত হয়নি।

(৫) অনলাইন মিউচুয়াল ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে এইচ এস সেকশনের টিচারদের ট্রান্সফারের সুযোগ বৃদ্ধি করতে নর্মাল সেকশনের H/ PG টিচারদের সাথে মিউচুয়াল অপশন চালু করতে হবে।
(৬) মাদ্রাসার যে সকল শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা গত ২০১৩ সালের মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের ট্রান্সফার নোটিফিকেশনে আবেদনের সুযোগ পাননি অর্থাৎ NOT APPLICANT দের জন্য পুনরায় আপডেট ভেকেন্সি অনুযায়ী নতুন করে জেনারেল ট্রান্সফার নোটিফিকেশন প্রকাশ করে সকলকে ট্রান্সফারের সুযোগ দিতে হবে।

(৭) সকল শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর ২বছর চাকুরী অতিক্রম হলেই তাদেরকে অটোমেটিক কনফারমেশন দিয়ে PERMANENT APPROVAL প্রদান করতে হবে।
(৮) বর্তমানে চালু থাকা স্পেশাল গ্রাউন্ড ট্রান্সফার প্রক্রিয়া ও আবেদন পদ্ধতি নোটিফিকেশন মাধ্যমে প্রকাশ করতে হবে এবং এই আবেদন অনলাইন মাধ্যমে জমার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এছাড়াও, স্বচ্ছতার সাথে যোগ্য ও বিশেষ সমস্যাযুক্ত শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের সুযোগ দিতে হবে।
(১০) অনলাইন মিউচুয়াল ট্রান্সফার পোর্টালে নর্মাল সেকশনে সায়েন্স সাবজেক্টগুলির মিউচুয়াল অপশন সংক্রান্ত সমস্যা অতিসত্বর সমাধান করতে হবে।
(১১) চাকুরীজীবনে একাধিকবার মিউচুয়াল ট্রান্সফারের সুযোগ দিতে হবে।
(১২) ট্রান্সফারের সুযোগ বৃদ্ধি করতে স্কুল থেকে মাদ্রাসা ও মাদ্রাসা থেকে স্কুলের ট্রান্সফার প্রক্রিয়া চালু করতে হবে।
এপ্রসঙ্গে সংগঠন এর সম্পাদক চন্দন গরাই বলেন, ” বিদ্যালয় ও শিক্ষার স্বার্থে অবিলম্বে ডিস্ট্রিক্ট ট্রান্সফার ও জেনারেল ট্রান্সফার সুষ্ঠু ও যথাযথ নোটিফিকেশন প্রকাশ করে অনলাইনে শুরু করতে হবে। “

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত