মেধা তালিকা প্রকাশিত, অপেক্ষায় হাজার হাজার ‘যোগ্য’ শিক্ষক-শিক্ষিকা—তবু কাউন্সেলিং কবে শুরু হবে, তার কোনও নির্দিষ্ট উত্তর নেই। স্কুল শিক্ষক নিয়োগে আবারও প্রশাসনিক জটিলতায় আটকে গেল প্রক্রিয়া। মূল বাধা একটাই—১২,৪৪৫টি শূন্যপদে বিষয়ভিত্তিক ও জাতিভিত্তিক নির্ভুল ম্যাচিং ভ্যাকেন্সি এখনও পাঠানো হয়নি স্কুল সার্ভিস কমিশনের কাছে। ফলে কাউন্সেলিং শুরু করতে পারছে না কমিশন।
৪ ফেব্রুয়ারি, বুধবার পর্যন্ত স্কুল শিক্ষা দফতরের তরফে ওই ম্যাচিং ভ্যাকেন্সির তালিকা কমিশনে পৌঁছয়নি বলেই জানা গিয়েছে। অথচ এই তালিকা ছাড়া কোনও ভাবেই কাউন্সেলিং শুরু করা সম্ভব নয়। West Bengal School Service Commission সূত্রে জানানো হয়েছে, কাউন্সেলিং শুরুর আগে স্কুল, বিষয় ও শূন্যপদের নিরিখে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রয়োজন।

সুপ্রিম কোর্টে দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, ১৫ জানুয়ারি থেকেই নিয়োগের সুপারিশপত্র দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা ছিল। নবম–দশম শ্রেণির নথি যাচাই হওয়ার কথা ছিল ২৬ ডিসেম্বর। কিন্তু সেই সময়সীমা পেরিয়ে দু’মাস কেটে গেলেও এখনও প্রক্রিয়া শুরু করা যায়নি। নিয়ম অনুযায়ী, ৩১ অগাস্টের মধ্যে কাউন্সেলিং শেষ করে নবম–দশম এবং একাদশ–দ্বাদশের নিয়োগের সুপারিশ দিতে হবে এসএসসি-কে। চূড়ান্ত নিয়োগপত্র দেবে West Bengal Board of Secondary Education।
কমিশন সূত্রে খবর, একাদশ–দ্বাদশের কাউন্সেলিংয়ের ডাক পেয়েছেন ‘যোগ্য’ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে ৮,২৯৯ জন চাকরিহারা প্রার্থী। কিন্তু মধ্যশিক্ষা পর্ষদের কাছ থেকে ম্যাচিং ভ্যাকেন্সি হাতে না পেলে কাউন্সেলিং শুরু করা সম্ভব নয়। তালিকা এলেও কাউন্সেলিং শুরু করতে অন্তত ৯–১০ দিন সময় লাগবে। সে ক্ষেত্রে ফেব্রুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহের আগে কাউন্সেলিং শুরু হওয়ার সম্ভাবনা কম।
এর আগে কাউন্সেলিং শুরু হলে সমস্যায় পড়তে পারেন বহু শিক্ষক-শিক্ষিকা। কারণ বর্তমানে রাজ্যজুড়ে চলছে মাধ্যমিক পরীক্ষা, যা শেষ হবে ১২ ফেব্রুয়ারি। একই দিনে শুরু হচ্ছে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা, চলবে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। বহু শিক্ষক-শিক্ষিকা পরীক্ষার ইনভিজিলেশনের দায়িত্বে রয়েছেন। তার মধ্যেই কাউন্সেলিং শুরু হলে প্রশাসনিক সমস্যা তৈরি হতে পারে।


এর পরেই মার্চের শুরুতে রয়েছে গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি নিয়োগ পরীক্ষা। সব মিলিয়ে সময়ের অভাব ও একাধিক পরীক্ষার চাপের মধ্যে কবে কাউন্সেলিং শুরু হবে, তা এখনও কমিশনের কাছেও স্পষ্ট নয়।
এই পরিস্থিতিতে ক্ষোভ বাড়ছে ‘যোগ্য’ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে। যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চ-এর অন্যতম আহ্বায়ক মেহবুব মণ্ডল বলেন,
“ম্যাচিং ভ্যাকেন্সি পাঠানোই শুধু নয়, নিয়োগের ক্ষেত্রে যে রোস্টার আইনগত ভাবে তৈরি করা উচিত, সেটাও সরকার ঠিকভাবে করছে না। এর ফলে ভবিষ্যতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নতুন করে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।”

পরীক্ষা, ভোটের প্রস্তুতি আর প্রশাসনিক দেরির মাঝে আটকে থাকা এই নিয়োগ প্রক্রিয়া কবে গতি পাবে—সেই দিকেই তাকিয়ে এখন রাজ্যের হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থী শিক্ষক-শিক্ষিকা।







