শিক্ষক নিয়োগে মমতাহীন রাজ্য সরকার! মানা হচ্ছেনা ছাত্র ও শিক্ষকের অনুপাত।

শিক্ষক নিয়োগে মমতাহীন রাজ্য সরকার! মানা হচ্ছেনা ছাত্র ও শিক্ষকের অনুপাত।

নজরবন্দি ব্যুরো: শিক্ষক নিয়োগে মমতাহীন রাজ্য সরকার! মানা হচ্ছেনা ছাত্র ও শিক্ষকের অনুপাত।শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে শিক্ষকদের চাকরীস্থল নির্ধারণ এবং বদলির ক্ষেত্রে সবসময় প্রাধান্য পেয়েছে রাজনৈতিক পরিচয় ও স্বজনপ্রীতি। আর এর ফলে শহরের বেশিরভাগ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ুয়ার সংখ্যা থেকে শিক্ষক অনেকটাই বেশি রয়েছেন। এর পাশাপাশি প্রত্যন্ত গ্রাম ও সীমান্তের স্কুলগুলি পর্যাপ্ত শিক্ষকের অভাবে ধুঁকছে।

শিক্ষক নিয়োগে মমতাহীন রাজ্য, মানা হচ্ছে না শিক্ষার অধিকার আইন অনুযায়ী ছাত্র ও শিক্ষকের অনুপাত। অভিযোগ নদিয়া জেলায় প্রায় ২৬০০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। শেষবারের শিক্ষক নিয়োগের সময় ১৭৮৩ জন প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ করা হয়। নিয়োগের আগে জেলার বিভিন্ন চক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শকরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের কাছে বিভিন্ন স্কুলে শূন্যপদের তথ্য দিয়ে শিক্ষক চেয়ে আবেদন করেন।

আরও পড়ুনঃ দিদি মোদের চাকরি দাও নইলে বুকে বুলেট দাও! ব্যাপক আন্দোলনে আপার বঞ্চিত-রা।

কিন্তু সেই আবেদন বাস্তবে মানা হয়নি। অভিযোগ, শহরের স্কুলগুলিতে শিক্ষকের প্রয়োজন না থাকলেও শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। অপরদিকে রাজ্যের সীমান্তবর্তী স্কুলগুলিতে কম সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। শিক্ষকের এই অসম বণ্টনের জন্য ভুগছে গ্রামীণ স্কুলগুলি। শিক্ষার অধিকার আইন অনুযায়ী, পড়ুয়া সংখ্যা দেড়শোর মধ্যে হলে প্রতি ৩০ জন ছাত্র পিছু একজন করে শিক্ষক থাকা বাধ্যতামূলক।

ছাত্র সংখ্যা তার বেশি হলে প্রতি চল্লিশ জন পড়ুয়া পিছু একজন করে শিক্ষক থাকার কথা। কিন্তু অপরিকল্পিত ভাবে শিক্ষকদের কর্মস্থল নির্ধারণ করার ফলে গ্রামের স্কুলগুলিতে ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ শিক্ষকদের একটা বড় অংশের।

অন্যদিকে আপার প্রাইমারীর চাকরিপ্রার্থীরা নেমেছেন মরন পন আন্দোলনে। তাঁদের বক্তব্য, ৭ বছর ধরে আমরা বঞ্চিত! দিদি হয় চাকরি দিন নয় বুলেট। পশ্চিমবঙ্গ আপার প্রাইমারি চাকরিপ্রার্থী মঞ্চ জানিয়েছে, দীর্ঘ ছয় বছরের আন্দোলন ও আইনি প্রক্রিয়ার পর কমিশন ৪ঠা অক্টোবর ২০১৯ যে মেরিট লিস্ট প্রকাশ করেছে তাতেও বিস্তর অসঙ্গতি রয়েছে। প্রায় বারো হাজার চাকরি প্রার্থী কমিশনে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ জানান। পাশাপাশি অনেকেই আদালতের দ্বারস্থ হন। মঞ্চের অভিযোগ মেধাতালিকায় ইন্টারভিউ দেওয়া সকল প্রার্থীর নাম নেই। টেট ও অ্যাকাডেমিক স্কোরেও রয়েছে বিস্তর অসঙ্গতি।

ইন্টারভিউতে ডাকার ক্ষেত্রে শূন্যপদ ও প্রার্থীর ১ : ১.৪ রেশিও মানা হয়নি। নিয়োগ বিধিতে ইন্টারভিউ তালিকা প্রকাশের আগে পর্যন্ত শূণ্যপদ আপডেটের কথা থাকলেও সাত বছরের শুণ্যপদ তেমন বাড়েনি বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা কমে গেছে। এমনকি নব স্হাপিত বিদ্যালয় গুলির অনুমোদিত ৫১০৮ টি শূন্যপদও ফাইনাল ভেকেন্সিতে যুক্ত হয়নি। চাকরি প্রার্থিদের আকুতি “দিদি মোদের চাকরি দাও নইলে বুকে বুলেট দাও!”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x