বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সহিংসতা ও অস্থিরতা নিয়ে আবারও সরব হলেন নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর দেশজুড়ে যে ভাঙচুর ও হিংসার ঘটনা ঘটেছে, তা দেখে গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। সোশাল মিডিয়ায় দেওয়া একাধিক পোস্টে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন লেখিকা।
শুক্রবার নিজের সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্টে তসলিমা বাংলাদেশের একাধিক সহিংস ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, একটি হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যে ভাবে হিংসা ছড়িয়ে পড়েছে, তা অত্যন্ত ভয়াবহ এবং মানবিকতার পরিপন্থী। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, এই পরিস্থিতি সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।


একটি পোস্টে তিনি সাম্প্রতিক একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের উল্লেখ করেন, যেখানে এক যুবককে গণপিটুনির পর হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে তসলিমা লেখেন, সমাজের নীরবতা ও বিবেকহীনতাই তাঁকে সবচেয়ে বেশি ব্যথিত করেছে। তাঁর মতে, এই ধরনের ঘটনায় প্রতিবাদ না হওয়াই পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলছে।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার রাতে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় শরিফ ওসমান হাদির। তিনি ঢাকা ৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিজয়নগর এলাকায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর প্রথমে তাঁকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়েছিল। হামলাকারীদের পরিচয় এখনও স্পষ্ট নয়।
হাদির মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসার পরই বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঢাকায় একাধিক সংবাদমাধ্যমের অফিসে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ধানমন্ডির বাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগও সামনে আসে। এই সব ঘটনার মধ্যেই কয়েকটি জায়গায় গণহিংসার খবর ছড়িয়ে পড়ে।


এই প্রেক্ষাপটেই তসলিমা নাসরিনের মন্তব্য নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। মানবাধিকার ও সংখ্যালঘু সুরক্ষার প্রশ্নে তিনি বরাবরই সরব। তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্য বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরেও নতুন করে বিতর্ক উসকে দিতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।








