‘এতদিন কোথায় ছিলেন?’ মানিকতলা বাজারে জনরোষের মুখে টাস্কফোর্স। পালং ৩০০, বেগুন ১০০ টাকা, সজনা ডাটা ২০০ টাকা! কৃত্রিম চাহিদা তৈরি করেই বাজারে সবজির দাম বৃদ্ধি করছে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী। আলু, পেয়াঁজ, ঝিঙে, শশা, কাঁচালঙ্কা, বেগুন, সজনা ডাটা সহ বাজারে অধিকাংশ সবজির দামই মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে গিয়েছে। শাক সবজির এই আগুন দাম কমাতে তৎপর হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নবান্নে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতর এবং বাজার কমিটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ, ১০ দিনের মধ্যে দাম কমাতে হবে।’ এর পরই গতকাল ঘুম ভেঙেছে টাস্ক ফোর্সের।

গতকাল কাঁকুড়গাছি বাজারের পর আজ মানিকতলা বাজার পরিদর্শন করতে বেরিয়েছিল রাজ্যের টাস্ক ফোর্স। আর মানিকতলা বাজারে জনরোষের মুখে টাস্কফোর্স, প্রশ্ন একটাই, এতদিন কোথায় ছিলেন। আমজনতা ঘিরে ধরে প্রশ্ন করেন, এতদিন কোথায় ছিলেন আপনারা? এই প্রশ্ন টাস্ক ফোর্স কে শুনতে হয়েছে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর মুখ থেকেও। গত পরশু নবান্নে মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে টাস্ক ফোর্সকে রীতিমত ধমক দেন মমতা। আজ সেই ধমকের প্রতিধ্বনি শোনা গেল মানিকতলা বাজারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গত পাঁচ বছরের রেকর্ডকে ভেঙে দিয়েছে এবছরের সবজির দাম। মাথায় হাত কৃষক-সবজি বিক্রেতা থেকে সাধারণ মানুষের। দুদিন আগেই রাজ্য সরকারের তৈরি করে দেওয়া টাস্ক ফোর্সের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মমতা। মমতার কড়া ধমক খেয়ে এদিন সাত সকালেই ঘুম থেকে উঠে পড়েন টাস্ক ফোর্সের সদস্যরা। সকাল নটা নাগাত তাঁরা বাজার পরিদর্শনে বেরিয়ে পড়েন। কথা বলেন বিক্রেতাদের সঙ্গে। দাম বৃদ্ধি নিয়ে এক বিক্রেতা বলেন, ‘কিলো প্রতি আমাদের ১ থেকে ২ টাকা লাভ থাকে। যে দামে কিনব, তেমনই তো বিক্রি করব।’
মানিকতলা বাজারে জনরোষের মুখে টাস্কফোর্স, প্রশ্ন একটাই, এতদিন কোথায় ছিলেন।

মু্খ্যমন্ত্রী টাস্ক ফোর্সকে নির্দেশ দিয়ে বলেন সাত দিন ছাড়া মিটিং করতে হবে এবং ১০ দিনের মধ্যে সবজির দাম কমাতে হবে। গতকাল থেকে মুখ্যমন্ত্রীর ঝাঁকুনিতে ঘুম ভেঙেছে টাস্ক ফোর্সের। টাস্ক ফোর্সের প্রধান রবীন্দ্রনাথ কোলে বলেন, ‘দাম বেড়েছে এটা বাস্তব। দাম কমানোর জন্যই আজ আমরা বেরিয়েছি। সঙ্গে রয়েছেন এনফোর্সমেন্টের আধিকারিকরা। কিন্তু দামটা বেড়েছে কেন, সেটাই এখন প্রশ্ন। সেটা সাধারণভাবে বেড়েছে, না ম্যান মেড, সেটাই জানার চেষ্টা চলছে। তবে আলুর দাম কমবেই, এতে কোনও সন্দেহ নেই।’



