খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর থেকেই নাগরিকত্ব নিয়ে দুশ্চিন্তায় হাজার হাজার মতুয়া পরিবার। এসআইআর প্রক্রিয়ায় নাম বাদ পড়ার আশঙ্কায় শনিবার তাহেরপুরের মতুয়াগড়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-র সভাকে ঘিরে প্রত্যাশা ছিল স্পষ্ট বার্তার। কিন্তু নাগরিকত্বের প্রশ্নে তিনি কোনও নির্দিষ্ট ঘোষণা না করে ধর্মীয় সম্ভাষণ—‘জয় নিতাই’—এইটুকুতেই বক্তব্য সীমাবদ্ধ রাখেন।
কোথায় কত নাম বাদ
এসআইআর-এ খসড়া তালিকা প্রকাশের পর দেখা গিয়েছে, মতুয়া-প্রভাবিত বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতেই নাম বাদ পড়ার হার সবচেয়ে বেশি। শুধু রানাঘাট উত্তর-পূর্ব ও রানাঘাট দক্ষিণ—এই দুই কেন্দ্রেই প্রায় ৪২ হাজার মতুয়ার নাম বাদ পড়েছে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। ফলে ফের উদ্বাস্তু হওয়ার ভয় গ্রাস করছে বহু পরিবারকে।
সভার বক্তব্য ও প্রতিক্রিয়া
তাহেরপুরে ভার্চুয়াল ভাষণে প্রধানমন্ত্রী অনুপ্রবেশ ইস্যুতে সরব হন এবং এসআইআর প্রক্রিয়ার পক্ষে যুক্তি দেন। পাশাপাশি শাসকদল তৃণমূলকে আক্রমণ করে বলেন, এসআইআর-বিরোধিতা অনুপ্রবেশকারীদের স্বার্থে। তবে নাগরিকত্ব বা নাম বাদ পড়া নিয়ে কোনও সরাসরি আশ্বাস দেননি—এতেই হতাশা ছড়ায় সভায় উপস্থিত মতুয়াদের মধ্যে।
তৃণমূলের কটাক্ষ
সভা শেষ হতেই তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ কড়া প্রতিক্রিয়া জানান। তাঁর বক্তব্য, “হঠকারি কমিশনের এসআইআর-এ যারা অনিশ্চয়তায় পড়েছেন, তাঁদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কোনও দিশা নেই। মূল সমস্যাই এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।” তিনি ভাষণটিকে “দিশাহীন ও দায়িত্বজ্ঞানহীন” বলেও কটাক্ষ করেন।
বিজেপির পাল্টা ব্যাখ্যা
অন্য দিকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন—কারও নাগরিকত্ব যাবে না। যদিও অতীতে বিজেপির বিভিন্ন নেতা মতুয়াদের পাশে থাকার বার্তা দিলেও, এ দিনের সভায় সরাসরি ঘোষণা না আসায় প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
রাজনৈতিক অঙ্ক
বিশ্লেষকদের মতে, নাগরিকত্ব নিয়ে স্পষ্ট বার্তা না আসায় মতুয়া ভোটব্যাঙ্কে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এসআইআর-এ নাম বাদ পড়ার বাস্তব উদ্বেগের সমাধান না হলে, বঙ্গে বিজেপির উপর চাপ বাড়তে পারে—এই প্রশ্নই এখন রাজনৈতিক মহলে ঘোরাফেরা করছে।



