টলিউডে ক্ষমতার সমীকরণ বদলের আবহে বড় পদক্ষেপ পুলিশের। প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই এবং টালিগঞ্জের প্রভাবশালী সংগঠক স্বরূপ বিশ্বাসকে তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার করেছে নিউ আলিপুর থানার পুলিশ। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে টেকনিশিয়ান ও কলাকুশলীদের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে অর্থ আদায় করা হত। এই গ্রেফতারির পর ফের আলোচনার কেন্দ্রে টলিপাড়ার সাংগঠনিক রাজনীতি।
পুলিশ সূত্রে খবর, টালিগঞ্জের টেকনিশিয়ান স্টুডিয়ো এবং সংশ্লিষ্ট মহলের একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছিল। সেই তদন্তেই উঠে আসে অর্থ আদায়ের অভিযোগ। এরপরই অভিযান চালিয়ে স্বরূপ বিশ্বাসকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।


এক সময় টালিগঞ্জের অন্যতম প্রভাবশালী সংগঠন ‘ফেডারেশন অফ সিনে টেকনিশিয়ান্স অ্যান্ড ওয়ার্কার্স অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া’-র সভাপতি ছিলেন স্বরূপ বিশ্বাস। দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনটির কার্যকলাপ নিয়ে একাংশের কলাকুশলী ও কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল বলে অভিযোগ। বিশেষ করে তৎকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাঁর প্রভাব নিয়ে বহুবার প্রশ্ন উঠেছিল।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর টলিপাড়ার সাংগঠনিক কাঠামোতেও বড় পরিবর্তন শুরু হয়েছে। সম্প্রতি বিজেপি বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী ঘোষণা করেন, পুরনো ফেডারেশনের আর কোনও অস্তিত্ব থাকবে না। তার পরিবর্তে দিল্লিভিত্তিক ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার্স কনফেডারেশনের অধীনে আনা হবে টলিউডের বিভিন্ন সংগঠনকে। তাঁর দাবি ছিল, শিল্পকে দুর্নীতিমুক্ত এবং স্বচ্ছ কাঠামোর মধ্যে আনতেই এই সিদ্ধান্ত।
ফেডারেশনের অস্তিত্ব কার্যত শেষ হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারি তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে টলিপাড়ার সাংগঠনিক ক্ষমতার কেন্দ্রে ছিলেন তিনি। ফলে এই ঘটনায় শিল্পমহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।


এদিকে ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও সম্প্রতি শিরোনামে উঠে এসেছিলেন স্বরূপ বিশ্বাস। কিছুদিন আগে তাঁর স্ত্রী জুঁই বিশ্বাস প্রকাশ্যে জানান, তিনি আইনি বিচ্ছেদের পথে হাঁটছেন। কলকাতা পুরসভার ৮১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও ১০ নম্বর বরোর চেয়ারপার্সন জুঁই দাবি করেছিলেন, ২০১৯ সাল থেকেই তিনি দুই মেয়েকে নিয়ে আলাদা থাকছেন। দীর্ঘদিন নানা কারণে আইনি পদক্ষেপ না করলেও এবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করা হয়েছে।
যদিও পারিবারিক বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করতে চাননি স্বরূপ বিশ্বাস। সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে তিনি সংক্ষিপ্তভাবে জানিয়েছিলেন, ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে তিনি কথা বলতে আগ্রহী নন।
তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতারির পর এখন নজর তদন্তের অগ্রগতির দিকে। অভিযোগের পক্ষে কী তথ্যপ্রমাণ উঠে আসে এবং আদালতে পুলিশ কী অবস্থান নেয়, সেটাই আগামী দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



