বিধানসভার বিতর্কিত সই জালিয়াতি মামলার তদন্তে এবার কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের বাড়িতে পৌঁছল সিআইডি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চেতলার বাসভবনে গিয়ে তাঁর বয়ান রেকর্ড করেন তদন্তকারীরা। ইতিমধ্যেই এই মামলায় একাধিক তৃণমূল নেতার নাম উঠে এসেছে। ফলে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে, তদন্তের পরবর্তী ধাপ কোন দিকে এগোয় তা নিয়ে।
বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া সই জালিয়াতির অভিযোগে ক্রমেই সক্রিয় হচ্ছে রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা শাখা। কয়েকদিন আগেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে গিয়ে দ্বিতীয়বার হাজিরার নোটিস দিয়েছিলেন তদন্তকারীরা। এবার সেই একই মামলার সূত্র ধরেই মহানাগরিক ফিরহাদ হাকিমের বাড়িতে পৌঁছলেন সিআইডি আধিকারিকরা।


তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১ জুন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রথমবার ভবানীভবনে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি সময় চেয়েছিলেন। তাঁর আবেদন মঞ্জুর না করে তদন্তকারীরা নতুন করে ৮ জুন হাজিরার নির্দেশ দেন। সেই নোটিসও সরাসরি তাঁর বাড়িতে গিয়ে পৌঁছে দেওয়া হয়।
পুরো বিতর্কের সূত্রপাত বিরোধী দলনেতা নির্বাচন ঘিরে। অভিযোগ, বিধানসভায় বিরোধী দলের নেতৃত্ব নির্ধারণ সংক্রান্ত একটি রেজোলিউশনে একাধিক বিধায়কের সই জাল করা হয়েছে। ৯ মে বিধানসভার স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া এক চিঠিতে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা, অসীমা পাত্র ও নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়কে উপ-দলনেতা এবং ফিরহাদ হাকিমকে চিফ হুইপ হিসেবে মনোনীত করার কথা জানানো হয়েছিল।
পরবর্তীতে ১৮ মে বিধানসভার প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি ওই সিদ্ধান্তের সমর্থনে রেজোলিউশনের কপি জমা দিতে নির্দেশ দেন। তার ভিত্তিতে ২০ মে ৭০ জন বিধায়কের স্বাক্ষর-সহ একটি নথি জমা দেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়।


কিন্তু ২৭ মে পরিস্থিতি নাটকীয় মোড় নেয়। তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা স্পিকারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন যে, ৬ মে এমন কোনও বৈঠকই হয়নি এবং তাঁদের নামে যে স্বাক্ষর দেখানো হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভুয়ো। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এরপর বিধানসভার প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি হেয়ার স্ট্রিট থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন। পরে মামলার তদন্তভার যায় সিআইডির হাতে। তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট বিধায়কদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। সেই তালিকায় ফিরহাদ হাকিম, অরূপ রায়, চন্দ্রনাথ সিনহা, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ ও তাপস মাইতির মতো একাধিক পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নাম রয়েছে।
তদন্তকারীরা এখন রেজোলিউশন তৈরির প্রক্রিয়া, স্বাক্ষরের সত্যতা এবং সংশ্লিষ্ট নেতাদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছেন। ফিরহাদ হাকিমের বয়ান রেকর্ডের পর এই মামলার তদন্ত আরও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। আগামী ৮ জুন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাজিরা এবং তার পরবর্তী তদন্ত-পর্বের দিকে এখন নজর সকলের।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



