‘সব লিখে রেখেছি, সুদে-আসলে ফেরত দেবো’, নন্দীগ্রামে হুঁশিয়ারি ভূমিপুত্র শুভেন্দুর

‘সব লিখে রেখেছি, সুদে-আসলে ফেরত দেবো’, নন্দীগ্রামে হুঁশিয়ারি ভূমিপুত্র শুভেন্দুর

নজরবন্দি ব্যুরো: ‘সব লিখে রেখেছি, সুদে-আসলে ফেরত দেবো’, নন্দীগ্রাম থেকে ফের হুঁশিয়ারি দিলেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রামে তাঁর ‘জন সহায়তা কেন্দ্র’ ভাঙচুরের প্রতিবাদে সোমবার নীরব প্রতিবাদ মিছিল করেন প্রাক্তন এই তৃণমূল নেতা। এরপর তিনি হুশিয়ারির সুরে বলেন, “সব লিখে রেখেছি, সুদে-আসলে ফেরত দেবো৷”

আরও পড়ুন: রাণাঘাটে রণং দেহী মমতা, ‘এনআরসি হতে দেব না’, স্পষ্ট জানালেন তৃণমূল নেত্রী

তিনি আরও বলেছেন, “সেদিন যারা আমার সহায়তা কেন্দ্র ভেঙেছে তাদের সবার ছবি সিসি টিভিতে ধরা আছে৷ ভেতরে ঢুকেছিলো ৭-৮ জন, বাইরে ১০-১২ জন৷ এই ২০ জনকেই আমি চিনি৷ এদের ছবিও আছে৷ পুলিশে এফআইআর করা হয়েছে প্রত্যেকের নামে৷ পুলিশকে ৩ দিন সময় দেওয়া হয়েছে৷ কোনও ব্যবস্থা না হলে পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ নিয়ে হাইকোর্টে যাব৷”

শুভেন্দু বলেন, ‘আপনারা ভয় পাবেন না৷ আদর্শ আচরণবিধি চালু হতে দিন৷ নির্বাচন কমিশন আর আধা সামরিক বাহিনির ভূমিকা কেমন হয় দেখতে পাবেন ৷’ এদিন শুভেন্দু আবারও একবার নিজের প্রাক্তন দল তৃণমূলের বিরুদ্ধে তোপ দেগে বলেন, ‘ওই দলের কিছু অশিক্ষিত, মাতাল বলছেন, আমি নাকি বলেছি নন্দীগ্রামের ঐতিহাসিক আন্দোলন নাকি আমি একা করেছি৷ কোথায় বলেছি এ কথা ? আমি বার বার বলেছি, নন্দীগ্রামের সেই আন্দোলন ছিলো নন্দীগ্রামের মানুষের৷ কোনও দাদা-দিদির আন্দোলন ওটা ছিলো না৷’ তৃণমূলকে উদ্দেশ্য করে শুভেন্দু এদিন বলেন, ‘এই যে হামলার রাজনীতি চালু করছেন, তাতে যে বিজেপিরই লাভ হচ্ছে৷ কিন্তু তা বোঝার ক্ষমতাও ওই দলের কারো মাথায় নেই৷’

এদিন তিনি ঘোষণা করেন, ‘সহায়তা কেন্দ্রে হামলার পর ওখানে কাজ করা কর্মীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন৷ তাই ওই সহায়তা কেন্দ্র আপাতত বন্ধ রাখছি৷ আপনারা ভুল বুঝবেন না৷ আপনাদের অসুবিধা হবে ঠিকই, কিন্তু তৃণমূল তো চাইছে আপনাদের অসুবিধা হোক৷ সে কারনেই তো হামলা করেছে৷’ প্রসঙ্গত, শনিবার বিকেলে তৃণমূলের মিছিল থেকেই শুভেন্দুর ব্যক্তিগত ওই কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ। সামনে লাগানো সাইনবোর্ড ভেঙে দেওয়া হয়। ভাঙচুর হয়েছে বাইকও। অভিযোগ অস্বীকার করে তৃণমূলের দাবি, এই ঘটনাও বিজেপিতে আদি-নব্য বিরোধের পরিণাম।

‘সব লিখে রেখেছি, সুদে-আসলে ফেরত দেবো’, টেঙ্গুয়া মোড় থেকে কয়েক পা দূরেই শুভেন্দুর ওই কার্যালয়। আগে সেখানে ক্রমান্বয়ে তাঁর সাংসদ ও বিধায়ক কার্যালয় ছিল। এখন সেটি হয়েছে সহায়তা কেন্দ্র। বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক জেলা সভাপতি নবারুণ নায়েকের অভিযোগ, ‘‘তৃণমূলের মিছিল থেকেই শুভেন্দুর অফিসে ভাঙচুর চলে। আমাদের পতাকাও ছিঁড়েছে।’’ নন্দীগ্রামের তৃণমূল নেতা সুফিয়ানের পাল্টা দাবি, ‘‘শুক্রবার সভা শেষে ফেরার পথে বিজেপি-র আদি কর্মীরাই শুভেন্দুর অফিসের হোর্ডিং ভাঙচুর করেছে।’’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x