নতুন সরকারের প্রথম দিনেই আবেগঘন মুহূর্ত—বিধানসভায় ঢোকার আগে সিঁড়িতে মাথা ঠেকিয়ে প্রণাম করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এরপর নিজের কক্ষে পুজো দিয়ে প্রথম বিধায়ক হিসেবে শপথ নিলেন তিনি, যা কার্যত নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক মহল।
বিধানসভা প্রাঙ্গণে পৌঁছনোর পর প্রথামাফিক গার্ড অফ অনার দেওয়া হয় মুখ্যমন্ত্রীকে। তাঁকে স্বাগত জানান প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়। এরপর বি.আর. আম্বেদকরের মূর্তিতে মাল্যদান করে নিজের নির্দিষ্ট কক্ষে যান শুভেন্দু, যেখানে পুরোহিতের উপস্থিতিতে পুজো দেন। ঘণ্টা ও শঙ্খধ্বনির মধ্যে সেই মুহূর্তের ভিডিও ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে শেয়ার করেছেন তিনি।
পরে অধিবেশন কক্ষে গিয়ে প্রথম বিধায়ক হিসেবে শপথবাক্য পাঠ করেন শুভেন্দু। সূত্রের দাবি, ভবানীপুর কেন্দ্রের বিধায়ক হিসেবে শপথ নেওয়ায় নন্দীগ্রাম আসনটি ছাড়তে পারেন তিনি—যা রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রীর পর একে একে শপথ নেন মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যরা—দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, নিশীথ প্রামাণিক-সহ একাধিক নেতা। প্রথম পর্বে প্রায় ৮০ জন বিধায়কের শপথগ্রহণের সূচি রয়েছে, যেখানে মূলত উত্তরবঙ্গ ও মুর্শিদাবাদ জেলার বিধায়কেরা রয়েছেন। দ্বিতীয় পর্বে নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিধায়কদের শপথ নেওয়ার কথা।
জানা গিয়েছে, বুধবারের পর বৃহস্পতিবারও এই শপথগ্রহণ পর্ব চলবে। স্থায়ী স্পিকার নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত প্রোটেম স্পিকার হিসেবেই দায়িত্ব পালন করবেন তাপস রায়। মঙ্গলবার তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান রাজ্যপাল আর. এন. রবি।
সূত্রের খবর, আগামী ১৫ মে বিধানসভায় স্পিকার নির্বাচন হওয়ার কথা এবং সেই পদে তাপস রায়ের নামই এগিয়ে রয়েছে। ফলে নতুন সরকারের প্রথম অধিবেশন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও তাৎপর্য দুই-ই তুঙ্গে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই কর্মসূচির আগেই মুখ্যমন্ত্রী অসমে হিমন্ত বিশ্বশর্মা-র শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। সেখান থেকে সরাসরি কলকাতায় ফিরে এসে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে যোগ দেন।
সব মিলিয়ে, আচার-অনুষ্ঠান, রাজনৈতিক বার্তা এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া—সবকিছুর মিশেলে নতুন সরকারের প্রথম দিনের ছবি এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।



