আইপ্যাক তল্লাশি ঘিরে রাজ্য রাজনীতির উত্তাপ যখন চরমে, ঠিক তখনই সামনে এল আরও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। কলকাতা হাইকোর্টে ইডির মামলা শুনানির আগেই বিস্ফোরক দাবি করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, দুর্নীতির ১৬ কোটি টাকা I-PAC-এর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকেছিল—এমনকী সেই লেনদেনের চেক নম্বরও প্রকাশ্যে জানিয়ে দিলেন তিনি।
বৃহস্পতিবার আইপ্যাকের সল্টলেক অফিসে Enforcement Directorate-এর তল্লাশিকে কেন্দ্র করে দিনভর নাটক চলে। তল্লাশির মাঝেই সেখানে হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল হাতে বেরিয়ে যাওয়ার সেই দৃশ্য ঘিরে রাজনৈতিক ঝড় ওঠে। পরে এই তল্লাশিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় ইডি। আর সেই ঘটনাকেই ‘ফৌজদারি অপরাধ’ বলে আখ্যা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী।


শুক্রবার সকালে সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু দাবি করেন, কেন্দ্রীয় প্রকল্প জল জীবন মিশন-এর নামে রাজ্যে ভয়াবহ দুর্নীতি হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলার জন্য এই প্রকল্পে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে কাজ হয়নি বললেই চলে। অভিযোগ, ২০২১ সালে একটি সংস্থা এই প্রকল্পের ১৭০ কোটি টাকার বরাত পায়। সেই সংস্থার অ্যাকাউন্ট থেকে কাকদ্বীপের একটি ব্যাঙ্ক মারফত ১৬ কোটি টাকা আইপ্যাকের অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করা হয়।
শুধু অভিযোগ নয়, শুভেন্দু দাবি করেন—তিনি ওই আর্থিক লেনদেনের চেক নম্বর পর্যন্ত জানেন। তাঁর কথায়, “এই টাকা কোনও রাজনৈতিক অনুদান নয়, সরাসরি দুর্নীতির টাকা।” যদিও আইপ্যাক বা শাসক শিবিরের তরফে এখনও এই অভিযোগের কোনও আনুষ্ঠানিক জবাব আসেনি।
একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়েও কটাক্ষ করেন বিরোধী দলনেতা। শুভেন্দুর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আদতে কোনও গুরুত্বপূর্ণ নথি নিয়ে যেতে পারেননি। তিনি বলেন, “যে প্রস্তাবিত প্রার্থী তালিকার কথা বলা হচ্ছে, সেই তালিকা অনেকের কাছেই রয়েছে। আর যে ল্যাপটপ নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তাতে কী ছিল—তা কেউই জানে না।”


সব মিলিয়ে, ইডি-তল্লাশি ঘিরে যে রাজনৈতিক সংঘাত শুরু হয়েছিল, তা এবার সরাসরি দুর্নীতির অভিযোগে পৌঁছে গিয়েছে। হাইকোর্টে মামলার শুনানির আগেই শুভেন্দুর এই দাবি রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে তোলপাড় ফেলবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।









