রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে গুরুতর আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়াল পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে। পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথির এক প্রাথমিক শিক্ষক রাজ্য বিজেপি সভাপতির কাছে লেখা চিঠিতে দাবি করেছেন, চাকরি ও রাজনৈতিক পদ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাসে তাঁর কাছ থেকে প্রায় আড়াই কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগকারীর নাম অনিমেষ গিরি। তাঁর দাবি, পরিবারের সদস্যদের রেল ও প্রাথমিক শিক্ষক পদে চাকরি দেওয়া এবং তাঁকে ভবিষ্যতে সাংসদ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিক দফায় মোট ২ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়। কাজ না হওয়ায় ৫০ লক্ষ টাকা ফেরত পেলেও বাকি অর্থ এখনও ফেরত পাননি বলে অভিযোগ।
এই চিঠিকেই হাতিয়ার করে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস শুভেন্দুকে তীব্র আক্রমণ করেছে। সমাজমাধ্যমে চিঠির অংশ প্রকাশ করে তৃণমূলের দাবি, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং বিজেপির অন্দরেই বিশ্বাসভঙ্গের উদাহরণ।
অন্য দিকে, অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের বক্তব্য, অভিযোগকারী ব্যক্তি বিশ্বাসযোগ্য নন এবং ভোটের মুখে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই এই অভিযোগ তোলা হয়েছে। তাঁদের দাবি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বর্তমানে তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত এবং বিজেপি বা আরএসএসের সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক নেই।
রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানান, তিনি এমন কোনও চিঠি হাতে পাননি। সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত কোনও নথি নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেওয়ার প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অভিযোগকারী অনিমেষ গিরির বক্তব্য অবশ্য ভিন্ন। তিনি জানান, ২০২১ সালের শেষ দিকে শুভেন্দুর সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়। জনহিতকর প্রকল্প এবং রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকার কথা বলে বিশ্বাস অর্জন করা হয়। অভিযোগ, টাকা ফেরত চাইলে হুমকিও পেয়েছেন তিনি। জানিয়েছেন, প্রয়োজনে আইনি ও প্রশাসনিক স্তরে অভিযোগ জানাবেন।
এই অভিযোগ-প্রতিযোগিতার মাঝেই প্রশ্ন উঠছে—নির্বাচনের আগে এমন অভিযোগ রাজ্য রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে? আপাতত সেই উত্তর সময়ই দেবে।



