‘ভেবেই লজ্জা লাগছে যে ২১ বছর ধরে তৃণমূল করেছি’, এবার সরাসরি TMC-কে আক্রমণ শুভেন্দুর।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরো: ‘ভেবেই লজ্জা লাগছে যে ২১ বছর ধরে তৃণমূল করেছি’, তৃণমূলের সঙ্গে দীর্ঘ কয়েক দশকের সম্পর্ক ছিন্ন করে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। এদিকে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্যে বাড়ছে তাপ উত্তাপ। শনিবার সকালে সদ্য বিজেপিতে যোগ দেওয়া সাংসদ সুনীল কুমার মণ্ডলের গাড়ি ঘিরে তৃণমূল বিক্ষোভ দেখায়। পাল্টা বিজেপি কর্মীরাও ময়দানে নামেন। এরপর দুপক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এবার এই ঘটনা নিয়েই সরাসরি তৃণমূলের বিরুদ্ধে সোচ্চার হলেন শুভেন্দু।

আরও পড়ুনঃ একদশক পিছিয়ে সেই সিঙ্গুরেই শিল্প। ‘ বাম ভাবনার’ জয় দেখছে রাজ্য।

তিনি বলেন, ‘একুশ বছর ধরে তৃণমূল কংগ্রেস করেছেন, ভেবেই তাঁর লজ্জা লাগছে৷’ সদ্য যোগ দেওয়া এই বিজেপি নেতার আরও বক্তব্য,’ সিপিএমের ছেঁড়া চটি পরেই একুশ বছর কাটিয়ে দিয়েছে তৃণমূল৷’ উল্লেখ্য, এ দিন হেস্টিংস-এ বিজেপি-তে যোগদানকারী নতুন নেতাদের নিয়ে কলকাতা হেস্টিংস-এর বিজেপি অফিসে বৈঠক ডাকা হয়েছিল৷ বিজেপি-তে যোগদানকারী নেতাদের সংবর্ধনারও ব্যবস্থা করা হয়৷ কিন্তু এ দিন হেস্টিংস-এ বিজেপি অফিসের অদূরেই পথসভার জন্য মঞ্চ তৈরি করে তৃণমূল৷ আর সেখানে জড়ো হন তৃণমূল কর্মী- সমর্থকরা৷ এ দিন সকালে বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য সাংসদ সুনীল মণ্ডল হেস্টিংস-এ পৌঁছন৷

তাঁর গাড়ি বিজেপি অফিসের কাছে যেতেই পথ আটকান তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা৷ রাস্তায় শুয়ে পড়ে সাংসদের গাড়ি আটকানোর চেষ্টা করা হয়৷ এই ঘটনা দেখে এগিয়ে আসেন বিজেপি কর্মীরা৷ দু’ পক্ষের মধ্যে শুরু হয় তুমুল হাতাহাতি৷ কোনওক্রমে পরিস্থিতি সামাল দেয় পুলিশ৷ দু’ পক্ষকে সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খায় পুলিশবাহিনী। এই ঘটনা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বিজেপি অফিসে শুভেন্দু অধিকারী পরে বলেন, ‘আজকে আমাদের জন্য এখানে সংবর্ধনার ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ কিন্তু তার আগে যে আচরণটা ঘটল, তাতে আমার ভাবতে লজ্জা লাগছে যে একুশ বছর ধরে আমি তৃণমূল দলটা করেছি৷

সত্যিই লজ্জা লাগছে৷ এই কালচার থেকে বাংলাকে বের করে আনতে হবে৷ শুভেন্দু আরও বলেন, ২১ বছর ধরে বাংলায় ফর দ্য পার্টি, অফ দ্য পার্টি, বাই দ্য পার্টি ব্যবস্থা চলছে৷ ৩৪ বছর ধরে সিপিএম আমলেও তাই হয়েছে৷ সিপিএম-এর ছেঁড়া চটি পরেই আমরা একুশ বছর কাটিয়ে দিলাম৷ একমাত্র বিজেপি-ই পারে ফর দ্য পিপল, অফ দ্য পিপল, বাই দ্য পিপল ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করতে৷’

‘ভেবেই লজ্জা লাগছে যে ২১ বছর ধরে তৃণমূল করেছি’, এছাড়া নিজের পুরনো দলকে কোম্পানি বলে কটাক্ষ করেছেন শুভেন্দু৷ তাঁর দাবি, যে কোনও মূল্যে বাংলাকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাতে তুলে দিতে হবে৷ যাতে কলকাতা এবং দিল্লিতে একই সরকার থাকে৷ সোনার বাংলা গড়ার কথাও শোনা যায় বিজেপি নেতার মুখে৷ প্রসঙ্গত, যতদিন তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেননি, সরাসরি পুরনো দলকে আক্রমণ করেননি শুভেন্দু অধিকারী৷ কিন্তু বিজেপি-তে যোগদানের পর থেকেই রাখঢাক না করেই তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন শুভেন্দু৷

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত