‘তৃণমূলে নিজেরও ভবিষ্যৎ ছিল না, দলেরও নেই’, বিজেপিতে যোগ দিয়েই বিস্ফোরক সুস্মিতা দেব

তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দিলেন প্রাক্তন রাজ্যসভা সাংসদ সুস্মিতা দেব। যোগদানের পরই তৃণমূলের ভবিষ্যৎ নিয়ে কড়া মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে কাজ করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

সুস্মিতা দেব-এর দলবদল ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগ দেওয়ার পর কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠকে তিনি তৃণমূলকে নিশানা করেন। তাঁর দাবি, তৃণমূলে তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ যেমন ছিল না, তেমনই দলের ভবিষ্যৎ নিয়েও তিনি আশাবাদী নন।

বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর সুস্মিতা দেব বলেন, পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা হারানোর পর তৃণমূলকে ঘিরে যে একের পর এক তথ্য ও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে, তা তাঁকে নতুন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। তাঁর বক্তব্য, এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলে থেকে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ তিনি দেখতে পাননি।

সুস্মিতা দেব বলেন, “তৃণমূলে আমার কোনও ভবিষ্যৎ ছিল না। শুধু আমার নয়, এই দলেরও ভবিষ্যৎ আমি দেখছি না। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ এবং অভিযোগগুলোই আমাকে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।”

নতুন দলে যোগ দিয়েই অসমের উন্নয়নের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। সুস্মিতা জানান, অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে গত এক দশকে রাজ্যের উন্নয়ন তাঁকে মুগ্ধ করেছে। ভবিষ্যতে তাঁর নেতৃত্বে কাজ করার আগ্রহও প্রকাশ করেন প্রাক্তন সাংসদ।

তিনি বলেন, “আমি দু’বার বাংলা থেকে সাংসদ হলেও আমার বাড়ি অসমের শিলচরে। গত ১০ বছরে অসমে যে উন্নয়ন হয়েছে, তা আমি নিজের চোখে দেখেছি। সেই উন্নয়নের অংশ হতে চাই।”

এর পাশাপাশি নিজের রাজনৈতিক অতীত নিয়েও মন্তব্য করেন সুস্মিতা দেব। তিনি স্বীকার করেন, গত পাঁচ বছর তিনি সক্রিয়ভাবে বাংলার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেই অধ্যায় শেষ করে এখন নতুন রাজনৈতিক পর্ব শুরু করতে চলেছেন বলেও ইঙ্গিত দেন।

উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পর দলের একাধিক নেতার দলত্যাগের ঘটনা সামনে এসেছে। সেই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার বিজেপিতে যোগ দেন তিন প্রাক্তন রাজ্যসভা সাংসদ—সুখেন্দু শেখর রায়, প্রকাশ চিক বরাইক এবং সুস্মিতা দেব। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই যোগদান আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত বহন করতে পারে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন