নজরবন্দি ব্যুরোঃ গত ২ মে বহরমপুর সূর্য সেন রোডের কাছে একটি মেসের সামনে একাধিক লোকের সামনে তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী সুতপাকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে খুন করে তাঁরই পূর্ব পরিচিত মালদার বাসিন্দা সুশান্ত চৌধুরী। খুনের ঘটনার তিন ঘণ্টার মধ্যে মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলা এবং জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার বিশেষ তদন্তকারী দল সুশান্তকে সামশেরগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করে।
আরও পড়ুনঃ ১২ বছর পর আবারও অভিনয়ে ফিরছেন শর্মিলা, ছবির নাম কি জানেন?


এই খুনের ঘটনার এক তদন্তকারী অফিসার জানিয়েছেন, জেরার মুখে সুশান্ত বলেছে, সুতপার সঙ্গে তার ভালোবাসার সম্পর্ক ছিল এবং এই ‘সম্পর্ক’ নিয়ে সুতপার বাবা-মা অবগত ছিলেন। সুশান্ত আরও দাবি করেছে সুতপার বাড়িতে তার নিয়মিত যাতায়াত ছিল। কিন্তু আজ এক বাংলা দৈনিককে সুতপার বাবা বলেন, ‘সুশান্তর এই দাবি সর্বৈব মিথ্যা। তার সঙ্গে আমাদের কোনও যোগাযোগ ছিল না। নিয়মিত আমাদের বাড়িতে তার আসার প্রশ্নই ওঠে না।‘

তিনি আরও বলেন, ‘সুতপা যখন অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিল তখন সম্ভবত সুশান্ত নবম শ্রেণিতে পড়ত। সেই সময় অঙ্কের এক শিক্ষক আমার মেয়েকে বাড়িতে পড়াতে আসতেন। সুশান্তও সেই শিক্ষকের কাছে অঙ্ক শিখত। তাই সেই সময় মাস ছয়েকের জন্য সুশান্ত আমাদের বাড়িতে এসে ওই শিক্ষকের কাছে অঙ্কের প্রশিক্ষণ নিত। কিন্তু ওই অঙ্ক শিক্ষক অনিয়মিতভাবে আমার মেয়েকে টিউশন দেওয়ার কারণে আমরা তাঁকে ছাড়িয়ে দিই। তার ফলে অষ্টম-নবম শ্রেণির পর সুশান্তের আমাদের বাড়িতে নিয়মিত আসার প্রশ্নই ওঠে না।’



অপর দিকে এই খুনের ঘটনাতে এবার লাগল রাজনীতির রঙ। শহরের নিরাপত্তার প্রশ্নে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। এই বিতর্কে ঘি ঢেলেছে রবিবার রাতে সৈদাবাদ এলাকায় বোমা বিস্ফোরণ। বহরমপুরের সাংসদ অধীর চৌধুরী বলেন, “খুন ধর্ষণ রাজ্যে এখন নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। রাজ্যে আইন শৃঙ্খলা থাকলে এই ধরনের ঘটনা বহরমপুরে ঘটতো না। এই ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ড এই বহরমপুরে শহরে ঘটেছে কি না কেউ বলতে পারবে?”

সিপিএমের জেলা সম্পাদক জামির মোল্লা বলেন, “রাজ্য জুড়ে যে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ দায় পুলিশ ও তৃণমূলের। বহরমপুর শহরে আজ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে যা বাম আমলে ছিল না। মুখ্যমন্ত্রী অপরাধীদের পক্ষে থাকছেন ফলে তারা নিশ্চিন্তে বুক ফুলিয়ে ঘুরতে পারছে।”
জেরায় সুশান্ত মিথ্যে বলছে, দাবি সুতপার বাবার, এই খুনে এবার লাগল রাজনৈতিক রঙ
বহরমপুরের বিজেপি বিধায়ক সুব্রত মৈত্র বলেন, “এই ধরনের নৃশংসা হত্যা আজ পর্যন্ত বহরমপুরে ঘটেনি। রাজ্যের নির্দশন শহরেও দেখা গেল। বিধানসভা নির্বাচনের পর বহরমপুরের অলিতে গলিতে জমি মাফিয়ারা ঘুরে বেড়াচ্ছে অস্ত্র হাতে। প্রশাসন দেখেও দেখছে না।”







