টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে ভারতের ব্যাটিং ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন। এশিয়া কাপ জেতা এবং অস্ট্রেলিয়া সফরে সিরিজ জয় সত্ত্বেও পুরো দলকে একসঙ্গে ছন্দে পাওয়া যাচ্ছে না। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে চলতি সিরিজেও একই ছবি—প্রথম ম্যাচে জয়, কিন্তু দ্বিতীয়টিতে বড় ব্যবধানে হার। এবং সমালোচনার কেন্দ্রে অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব ও সহ-অধিনায়ক শুবমন গিল।
হারের পর সূর্যের স্বীকারোক্তি
চণ্ডীগড়ের নতুন স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ভারতীয় বোলাররা ছন্দ হারানোর সুযোগ নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ২১৩ রানের পাহাড় চাপায়। জবাবে ব্যাটিংয়ে ভরাডুবি—তিলক বর্মা ছাড়া কেউই ব্যাট হাতে দাঁড়াতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ৫১ রানে হেরে যায় ভারত।
ব্যর্থতার পর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সূর্য সরাসরি বলেন, রান তোলার দায়িত্ব ছিল তাঁর ও গিলের। তাঁর কথায়,
“ব্যাটিংয়ে আমাকে আর গিলকে শুরুটা দিতে হতো। সব সময় অভিষেকের উপর চাপ দেওয়া যায় না। ও-ও কোনও দিন ব্যর্থ হতে পারে। শুবমন প্রথম বলেই আউট হয়ে যাওয়ায় দায়িত্বটা আমার নেওয়ার কথা ছিল। আমাকে অন্তত ইনিংসটা লম্বা করতে হতো।”
সূর্য আরও জানান, দল ভুল থেকে শিক্ষা নেবে এবং পরের ম্যাচেই সংশোধন দেখা যাবে।
পুরো বছর জুড়ে ব্যাটিং ধস
২০২৫ সালে ব্যাট হাতে এই দুই সিনিয়রের ব্যর্থতা একাধিকবার প্রশ্ন তুলেছে। সিরিজের প্রথম ম্যাচেও গিল মাত্র ৪ রান করে আউট হন, সূর্যের সংগ্রহ ছিল ১২ রান। সারা বছর কোনো ম্যাচেই দু’জনের কারোর অর্ধশতরান নেই—যা একটি আন্তর্জাতিক দলের মূল দুই ব্যাটারের জন্য অবশ্যই উদ্বেগের।

২০২৫ সালে দুই অধিনায়কের পরিসংখ্যান
সূর্যকুমার যাদব: ১৭ ইনিংসে ২০১ রান, গড় ১৪.৩৫, স্ট্রাইক রেট ১২৬
শুবমন গিল: ১৪ ইনিংসে ২৬৩ রান, গড় ২৩.৪
গিলকে নিয়ে আরও বিতর্ক হয়েছে কারণ তাঁর জায়গা দিতে সঞ্জু স্যামসনের মতো ফর্মে থাকা খেলোয়াড় বেঞ্চে বসে রয়েছেন। যশস্বী জয়সওয়ালকেও নিয়মিত সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না—ফলে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েই উঠছে প্রশ্ন।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ব্যাটিং বিভাগে এই অস্থিরতা কতটা সমস্যায় ফেলবে টিম ইন্ডিয়াকে, সেটাই এখন বড় চিন্তা দলের ভক্ত ও বিশ্লেষকদের।



