ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ মানেই আলাদা রোমাঞ্চ, আলাদা চাপ, আর আলাদা গল্প। কিন্তু এবারের ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মহারণে আলোচনার কেন্দ্রে কোনও সুপারস্টার ব্যাটার নন, বরং পাকিস্তানের এক রহস্যময় অফ-স্পিনার— উসমান তারিক। তাঁর অদ্ভুত বোলিং অ্যাকশন ঘিরে যতটা কৌতূহল, ততটাই বিতর্ক। আর সেই রহস্যের সামনে দাঁড়িয়ে ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের স্পষ্ট বার্তা— “চ্যালেঞ্জ যতই কঠিন হোক, আত্মসমর্পণ নয়।”
ভারত–পাকিস্তান লড়াইয়ের আগে এমন উত্তেজনা নতুন কিছু নয়। একসময় এই দ্বৈরথের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতেন সচিন তেন্ডুলকর, শোয়েব আখতার, ধোনি, কোহলি বা বাবর আজ়মদের মতো তারকারা। কখনও কোনও ব্যাটার, কখনও কোনও পেসার— সব সময়ই ম্যাচের আগে একজনকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বাড়তি আলোচনা। কয়েক মাস আগেই এশিয়া কাপে আলোচনায় ছিলেন অভিষেক শর্মা।
কিন্তু এবারের প্রেক্ষাপট আলাদা। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পাকিস্তানের অফ-স্পিনার উসমান তারিক। তাঁর বোলিং অ্যাকশন ব্যাটারদের কাছে অচেনা ও বিভ্রান্তিকর। বল ছাড়ার আগে আচমকা থেমে যাওয়া, তারপর সাইড-আর্ম ভঙ্গিতে ডেলিভারি— এই অদ্ভুত ছন্দ ভাঙা অ্যাকশন অনেক ব্যাটারের জন্যই ধাঁধা হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে তাঁর অ্যাকশন নিয়ে বিতর্কও চলছে জোরকদমে।
ম্যাচের আগে সাংবাদিক বৈঠকে এক পাকিস্তানি সাংবাদিক তারিককে ‘আউট অফ সিলেবাস’ প্রশ্ন বলে উল্লেখ করেন। সেই মন্তব্য শুনেই সূর্যকুমারের জবাব ছিল একেবারে পরীক্ষার খাতার উদাহরণ টেনে। তিনি বলেন, “পরীক্ষায় যদি সিলেবাসের বাইরে প্রশ্ন আসে, তা বলে কি সেটাকে ছেড়ে দেওয়া যায়? না, চেষ্টা তো করতেই হয়। আমরাও সেটাই করব।”
ভারত অধিনায়ক আরও জানান, দল ইতিমধ্যেই নেটে ভিন্ন ধরনের বোলিং অ্যাকশনের বিরুদ্ধে অনুশীলন করেছে। তাঁর কথায়, “উসমান আলাদা ধরনের বোলার, সেটা আমরা জানি। কিন্তু আমরা আত্মসমর্পণ করব না। প্রস্তুতি নিয়েই মাঠে নামব।”
ভারতীয় দল এই প্রথম বার তারিকের মুখোমুখি হতে চলেছে। ফলে চ্যালেঞ্জটা সহজ নয়। তার উপর কলম্বোর পিচ ধীরগতির ও স্পিন সহায়ক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভারতের টপ অর্ডারে একাধিক বাঁহাতি ব্যাটার থাকায় অফ-স্পিনারের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে উসমান তারিক বনাম ভারতের ব্যাটারদের লড়াই ম্যাচের গতিপথ নির্ধারণে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।



