উন্নাও ধর্ষণকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সেঙ্গারের আইনি লড়াইয়ে ফের বড় ধাক্কা। নির্যাতিতার বাবার হেফাজতে মৃত্যু মামলায় জামিন চেয়ে করা আবেদন শুনতেই রাজি হল না সুপ্রিম কোর্ট। কুলদীপের আবেদন খারিজ করে তা ফের পাঠানো হয়েছে দিল্লি হাই কোর্ট-এ, যেখানে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
এই রায়ে স্পষ্ট বার্তা—গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে জামিন প্রশ্নে শীর্ষ আদালত হস্তক্ষেপে অনিচ্ছুক। উন্নাওকাণ্ডে বহুদিন ধরেই কুলদীপ সেঙ্গারের বিরুদ্ধে আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক চলেছে, এ দিনের শুনানিতে তা ফের সামনে এল।
কী বলল সুপ্রিম কোর্ট
সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি এন ভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চে কুলদীপের জামিন আবেদনের কথা উঠেছিল। কিন্তু আদালত আবেদনটি শুনতে অস্বীকার করে জানায়, বিষয়টি দিল্লি হাই কোর্টকেই নিষ্পত্তি করতে হবে। একই সঙ্গে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—এই সিদ্ধান্তে তিন মাসের বেশি সময় নেওয়া যাবে না।
মামলার পটভূমি
২০১৭ সালে উন্নাওয়ে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার সময় নির্যাতিতা নাবালিকা ছিলেন। বাঙেরমউ কেন্দ্রের তৎকালীন বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সেঙ্গার ও তাঁর সহযোগী শশীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন তিনি। শুধু ধর্ষণই নয়, নির্যাতিতার বাবার হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনাতেও কুলদীপের নাম জড়ায়।
২০২০ সালের ১৩ মার্চ নিম্ন আদালত ওই হেফাজতে মৃত্যু মামলায় কুলদীপকে ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা করে। এই সাজা ও দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রায়কে চ্যালেঞ্জ করেই তিনি উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন।
হাই কোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্ট
প্রথমে দিল্লি হাই কোর্টে সাজা স্থগিত ও জামিনের আবেদন করেছিলেন কুলদীপ। কিন্তু সেখানে স্বস্তি না পেয়ে গত ১৯ জানুয়ারি তিনি সুপ্রিম কোর্টে যান। তাঁর আইনজীবীর দাবি ছিল—১০ বছরের সাজা হলেও কুলদীপ ইতিমধ্যেই প্রায় সাত বছর কারাবাস খেটেছেন। তবে এই আবেদনের বিরোধিতা করেন সিবিআই-এর পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা।
ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন সাজা বহাল
উল্লেখযোগ্য ভাবে, ধর্ষণ মামলায় কুলদীপের যাবজ্জীবন সাজা একসময় দিল্লি হাই কোর্ট স্থগিত করেছিল এবং ১৫ লক্ষ টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে তাঁকে স্বস্তি দিয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দেশের বিরুদ্ধে সিবিআই সুপ্রিম কোর্টে গেলে শীর্ষ আদালত হাই কোর্টের ওই রায় স্থগিত করে দেয়। ফলে ধর্ষণ মামলায় কুলদীপ সেঙ্গারের যাবজ্জীবন সাজা এখনও বহাল রয়েছে।
সব মিলিয়ে, একের পর এক মামলায় কুলদীপের জামিন পাওয়ার পথ যে আরও কঠিন হয়ে উঠছে, এ দিনের রায়ে তা আরও স্পষ্ট হল।



