উন্নাও ধর্ষণ কাণ্ড ফের রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে। দোষী সাব্যস্ত প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সেঙ্গার-এর সাজায় শর্তসাপেক্ষ স্থগিতাদেশ ও সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ ঘিরে এবার সরব হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি নেতৃত্বের নীরবতাকেই সরাসরি নিশানা করেছেন তিনি।
সম্প্রতি দিল্লি হাই কোর্ট থেকে শর্তসাপেক্ষে জামিন পান কুলদীপ সেঙ্গার। ২০১৭ সালের উন্নাও ধর্ষণ কাণ্ডে ২০১৯ সালে তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। সাজা স্থগিতের খবরে ভেঙে পড়েন নির্যাতিতা ও তাঁর পরিবার। ন্যায়বিচারের দাবিতে তাঁরা ইন্ডিয়া গেটের সামনে বিক্ষোভে নামেন বলে অভিযোগ।


নির্যাতিতার পরিবারের দাবি, ওই বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশি বাধার মুখে পড়তে হয় তাঁদের। শুধু তাই নয়, টেনে-হিঁচড়ে সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এই ঘটনার মাঝেই নতুন করে বিতর্ক তৈরি করে উত্তরপ্রদেশ সরকারের এক মন্ত্রীর মন্তব্য।
উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রী ওম প্রকাশ রাজভর নির্যাতিতা ও তাঁর মাকে নিয়ে প্রকাশ্যে হাসিঠাট্টা করেন বলে অভিযোগ। তিনি বলেন, “ওঁদের বাড়ি তো উন্নাওয়ে, ইন্ডিয়া গেটে কী করছিলেন?” এই মন্তব্যের পরেও বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া না আসায় ক্ষোভ চরমে ওঠে বিরোধী শিবিরে।
এই প্রেক্ষিতেই এক্স (সাবেক টুইটার)-এ পোস্ট করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, “ধর্ষণে দোষী সাব্যস্ত বিজেপি বিধায়ক জামিন পেয়েছেন। আর বিজেপির মিত্র মন্ত্রী ধর্ষণের শিকার নারীকে নিয়ে উপহাস করছেন।” তাঁর দাবি, এই নীরবতাই বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলিতে নারী নিরাপত্তার বাস্তব চিত্র তুলে ধরে।


অভিষেক আরও লেখেন, “আজ বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলোতে ‘বেটি বাঁচাও’-এর বাস্তব রূপ এটাই। যখন দোষী সাব্যস্ত ধর্ষকরা বাইরে ঘুরে বেড়ায় এবং মন্ত্রীরা উপহাস করেন, তখন প্রতিটি নারী ও ন্যায়বিচার খোঁজা পরিবার ব্যর্থ হয়।”
উল্লেখ্য, চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে নাবালিকাকে ধর্ষণের ঘটনায় কুলদীপ সেঙ্গার দোষী সাব্যস্ত হন। দিল্লি হাই কোর্টের বিচারপতি সুব্রহ্মণিয়াম প্রসাদ ও বিচারপতি হরিশ বৈদ্যনাথন শঙ্করের ডিভিশন বেঞ্চ মঙ্গলবার তাঁর সাজায় স্থগিতাদেশ দেয়।
এদিকে নির্যাতিতার অভিযোগ, সম্প্রতি তাঁর পরিবারের সদস্য, আইনজীবী ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “এমন ঘটনায় যদি দোষী জামিন পায়, তবে দেশের মেয়েদের নিরাপত্তা কে দেবে?” এই রায়ের বিরুদ্ধে সিবিআই সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানা গিয়েছে, যদিও আবেদন কবে করা হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।
সব মিলিয়ে, উন্নাও কাণ্ড ফের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে নারী নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিয়ে প্রশ্নের ঝাঁজ বাড়াল—আর সেই বিতর্কের কেন্দ্রে রইল বিজেপির ভূমিকা ও নীরবতা।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



