ফ্রি রেশন-সাইকেল-বিদ্যুৎ, হাতে নগদ টাকা! তাহলে কাজ করবে কে? খয়রাতি সংস্কৃতি নিয়ে প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের

বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়ার প্রস্তাব ঘিরে শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্ন, রাজস্ব ঘাটতির মধ্যেও ‘খয়রাতি সংস্কৃতি’ কি কর্মসংস্কৃতিকে ধাক্কা দিচ্ছে?

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভোটের আগে ফ্রি রেশন, নগদ ভাতা, বিনামূল্যে বিদ্যুৎ—এই প্রতিশ্রুতির রাজনীতির মধ্যেই বড় প্রশ্ন ছুড়ে দিল দেশের শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানাল, রাজস্ব ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও রাজ্যগুলিতে ‘খয়রাতি সংস্কৃতি’ বাড়ছে, আর তা দীর্ঘমেয়াদে কর্মসংস্কৃতি ও অর্থনীতির উপর প্রভাব ফেলতে পারে। “সব কিছু ফ্রি দিলে মানুষ কাজ করবে কেন?”—এই সরাসরি প্রশ্নেই যেন নীতি নির্ধারণের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এল কল্যাণ বনাম দায়বদ্ধতার বিতর্ক।

কী বলল সুপ্রিম কোর্ট?

তামিলনাড়ুর রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার একটি আর্জির শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চ এই পর্যবেক্ষণ করে। মামলাটি ছিল রাজ্যের সব নাগরিককে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়ার প্রস্তাব ঘিরে।

Shamim Ahamed Ads

প্রধান বিচারপতির মন্তব্য,
“দেশে কী ধরনের সংস্কৃতি তৈরি করছি আমরা? যারা দিতে পারে না, তাদের সাহায্য করা এক বিষয়। কিন্তু কে পারবে আর কে পারবে না—তা না দেখে সবাইকে বিনামূল্যে পরিষেবা দেওয়া কি তুষ্টিকরণ নয়?”

কর্মসংস্কৃতি বনাম খয়রাতি

আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—
যদি সরকার সকাল থেকে বিনামূল্যে খাবার দেয়, সন্ধ্যায় সাইকেল দেয়, আবার বিদ্যুৎও ফ্রি করে দেয়, তাহলে মানুষের কাজ করার আগ্রহ কোথায় থাকবে?

এই মন্তব্যে স্পষ্ট, আদালত মনে করছে কল্যাণমূলক প্রকল্পের পাশাপাশি কর্মসংস্থান তৈরির দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীও জানান, এটি কোনও এক রাজ্যের সমস্যা নয়—দেশের প্রায় সব রাজ্যেই একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

নির্বাচনের আগে বড় বার্তা

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ সামনেই তামিলনাড়ু, পশ্চিমবঙ্গ-সহ একাধিক রাজ্যে নির্বাচন। এই সময়েই বিভিন্ন দল ভোটারদের আকৃষ্ট করতে একাধিক ‘ফ্রি’ প্রকল্প ঘোষণা করে থাকে—

  • বিনামূল্যে রেশন

  • মাসিক নগদ ভাতা

  • ফ্রি বিদ্যুৎ বা অন্যান্য পরিষেবা

সুপ্রিম কোর্টের এই মন্তব্যে স্পষ্ট বার্তা—কল্যাণমূলক প্রকল্প থাকতেই পারে, কিন্তু তা যেন আর্থিক শৃঙ্খলা ও কর্মসংস্কৃতির ক্ষতি না করে।

বিতর্কের কেন্দ্রে ‘খয়রাতি’ রাজনীতি

এই পর্যবেক্ষণ নতুন করে আলোচনায় এনেছে একটি পুরনো বিতর্ক—
কল্যাণমূলক প্রকল্প কি সত্যিই দরিদ্রদের সহায়তা করছে, নাকি তা ধীরে ধীরে নির্ভরশীলতা বাড়াচ্ছে?

উত্তর যাই হোক, সুপ্রিম কোর্টের মন্তব্য স্পষ্ট করে দিয়েছে—ভবিষ্যতে এই বিষয়টি আরও গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হতে পারে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত