সুপ্রিম কোর্ট শুক্রবার জানিয়ে দিল, পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘভাতার ২৫ শতাংশ দিতে হবে। বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং মনোজ মিশ্রর ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দেন। এর ফলে রাজ্যের কোষাগারের উপর পড়তে চলেছে ১০ হাজার কোটি টাকারও বেশি আর্থিক চাপ।
এই রায়ে রাজ্য প্রশাসন ও শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস একপ্রকার অপ্রস্তুত। আগামী বছর ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে এমন চাপ সরকারকে নানা সিদ্ধান্তে পরিবর্তন করতে বাধ্য করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


কোথা থেকে আসবে টাকা?
তৃণমূলের একাধিক সূত্রের মতে, এই টাকা জোগাড়ের জন্য সরকারের সামনে দুইটি পথ রয়েছে:
-
আদালতের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে অন্য বেঞ্চে যাওয়ার চেষ্টা (যার সম্ভাবনা ক্ষীণ)।
-
জনকল্যাণমূলক প্রকল্প থেকে কাটছাঁট, যেমন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, আবাস যোজনা, ১০০ দিনের কাজ।
যদিও অর্থমন্ত্রকের উচ্চপদস্থ মহল বলছে, সুপ্রিম কোর্টের অন্তর্বর্তী নির্দেশ হওয়ায় আইনি লড়াইয়ের সুযোগও সীমিত। আর প্রকল্পে বরাদ্দ কমানো হলে তার প্রভাব পড়তে পারে সাধারণ মানুষের উপর, যা রাজনীতির নিরিখে ঝুঁকিপূর্ণ।
সময়সীমা নিয়ে ধোঁয়াশা:
আইনজীবীদের একাংশের মতে, চার সপ্তাহের মধ্যে টাকা দিতে হবে। আবার অনেকে মনে করছেন, পরবর্তী শুনানি অগস্টে, তাই সময় রয়েছে তিন মাস। যদিও সুপ্রিম কোর্টের সম্পূর্ণ রায় প্রকাশ পেলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
ডিএ ফারাক কতটা?
বর্তমানে রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা পাচ্ছেন ৩৯% ডিএ।
কেন্দ্রীয় হার: ৭৬% (প্রায়)।
ডিএ ফারাক: প্রায় ৩৭%।
এর আগে, ২০২২ সালের মে মাসে কলকাতা হাই কোর্ট কেন্দ্রের হারে ৩১% ডিএ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। সেই রায়কেই সুপ্রিম কোর্ট সমর্থন করেছে।
রাজ্যের আর্থিক অবস্থা:
RBI ও কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের রিপোর্ট অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের ঋণের হার জিডিপি-র ৩৮ শতাংশে পৌঁছতে পারে।
ঋণের ভারে রাজ্য দেশের মধ্যে ষষ্ঠ স্থানে।
কেন্দ্রীয় অনুদান না মেলায়, রাজ্য নিজস্ব খরচে চালাচ্ছে বিভিন্ন প্রকল্প।
সরকারের প্রতিক্রিয়া কী?
এখনও পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা রাজ্য সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাননি। তবে অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেছেন, “এ নিয়ে এখন আমি কোনও মন্তব্য করব না।” নবান্ন সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রী নিজেই কয়েক দিনের মধ্যে এই বিষয়ে বিবৃতি দেবেন।










